‘আমাকে বাঁচাও’: দিদিকে ফোনের ৭ মিনিট পরই দিল্লিতে মৃত্যু বধূর
বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
নয়াদিল্লি: ১৮ মে, সোমবার। রাত ৯টা বেজে ৫৫ মিনিট। রীনার কাছে ফোন করেন বোন বীণা কুমারী। ফোনের ওপার থেকে কান্না আর বাঁচার আর্তি— ‘দিদি আমাকে বাঁচাও। ওরা আমাকে খুব মারছে। আমি আর বাঁচব না...ওরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। আমার কিছু হলে ছ’মাসের বাচ্চাটাকে দেখো।’ এটাই ছিল শেষ কথা। তারপর ফোনটা কেটে যায়। ঠিক সাত মিনিট পর মৃত্যু হয় বীণার। রাত ১০টা ২ মিনিট নাগাদ বীণার দেওর ফোন করে জানান, ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন বৌদি। পশ্চিম দিল্লির ইন্দ্রপুরীতে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত যুবতীর পরিবারের দাবি, এটি কোনো আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নয়। পণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বীণাকে চাপ দিচ্ছিলেন স্বামী রাজু সিং ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁর উপর নির্যাতনও চালানো হত। তার জেরেই এই ঘটনা। অভিযুক্ত রাজু ও তাঁর ভাই রাজকুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বছর তিনেক আগে রাজু ও বীণার বিয়ে হয়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় উত্তরপ্রদেশের সম্ভল থেকে দিল্লি চলে আসেন দম্পতি। দু’জনের ছ’মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। শুরু থেকেই নানা বিষয়ে দু’জনের বিবাদ লেগে থাকত। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায়শই রাজু বলতেন— তোর থেকে ভালো বউ পেয়ে যাব। রাজুর ভাই শ্বশুরবাড়ি থেকে ৪৬ ইঞ্চির টিভি পেয়েছেন। কিন্তু বীণার বাড়ি থেকে ৩২ ইঞ্চির টিভি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের নানা তুলনা টেনে খোঁচা দিতেন অভিযুক্ত। সম্প্রতি বাইক চেয়ে বীণাকে চাপ দিতে শুরু করেছিলেন। আর সেই সঙ্গে চলত মারধর। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বীণার শ্বশুর জয়পাল।