• কাজ না করেই টাকা ‘গায়েব’, এবার ফাইল খুলবে জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির?
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনকী উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাজ নিজেদের বলে দেখিয়ে ‘গায়েব’ করে দেওয়া হয়েছে সরকারি অর্থ। জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (জেডিএ) বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ। অবশ্য এই অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৩ সাল থেকেই জেডিএ’র কাজকর্ম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। তৃণমূল সরকারের আমলে এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হলেও একজন ইঞ্জিনিয়ার গ্রেপ্তার এবং এক আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই হয়নি বলে দাবি। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে পালাবদলের পর জেডিএ’র ফাইল নতুন করে খোলার দাবি তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। জেডিএ’তে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। 

    আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার হুঁশিয়ারি, দুর্নীতিগ্রস্তরা কেউ পার পাবে না। কালচিনির বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামার তোপ, জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে লাগামহীন দুর্নীতি হয়েছে। বিধানসভায় এনিয়ে একাধিকবার বলেছি। সেসময় আমাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবার জেডিএ’র ফাইল খুলবে। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক মোহন শর্মার দাবি, জেডিএ’র দুর্নীতি নিয়ে বারবার আরটিআই করে জানতে চাওয়া হয়েছে। উত্তর মেলেনি। উপযুক্ত তদন্ত হলে অনেক ‘রাঘব বোয়াল’ ধরা পড়বে। 

    যদিও জেডিএ’র সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার অবশ্য বক্তব্য, জেডিএ’তে যে অনিয়ম হয়েছে, সেটা আমিই ধরেছি। তা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। একজন ইঞ্জিনিয়ার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এক পদস্থ কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানি। রাজ্যের বর্তমান সরকার যদি জেডিএ’র কাজকর্ম নিয়ে তদন্ত করতে চায়, স্বাগত জানাব। আমিও চাই, আরও কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা সামনে আসুক। 

    সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের অর্থে জয়গাঁ কলেজের কাছে প্রায় চার কোটি টাকার রাস্তা হয়। ওই কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদারকে দিয়ে এলাকার কিছু বাড়িঘর রক্ষা করতে গার্ডওয়ালের কাজ করিয়ে নেওয়া হয় স্থানীয় একটি ঝোরার পাশে। সেটাকেই একটি চক্র জেডিএ’র কাজ দেখিয়ে পাশ করিয়ে নেয় ৬৫ লক্ষ টাকার বিল। আরও একটি ক্ষেত্রে কাজ না করে ২০ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও ২০২৪ সালে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি সংস্থাকে প্রায় ২১ কোটি টাকার কাজের বরাত দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। জেডিএ’র এক ইঞ্জিনিয়ার তাঁর স্ত্রীর সংস্থাকে মশারি কেনার নামে মোটা টাকার বরাত পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ। পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে জেডিএ থেকে বহু ফাইল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। জয়গাঁয় পার্কিংয়ের জন্য বছরে সাত লক্ষ টাকার টেন্ডার হলেও জেডিএ’তে কোনো অর্থ জমা পড়েনি, এমন অভিযোগও রয়েছে। সবটাই এবার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছেন বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা। 

    জেডিএ’র প্রাক্তন চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ বলেন, এটা ঠিক যে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে করা একটি কাজ দেখিয়ে ৬৫ লক্ষ টাকার বিল পাশ করানো হয়েছিল। কিন্তু এটা আমি নিজে ধরি। বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হয়। তারপরই শুরু হয় তদন্ত। থানায় এফআইআর হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় পদস্থ কর্মীকে। বোর্ডে রেজ্যুলেশন করে ওই টাকা আবার সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেডিএ’র বেশকিছু ফাইল খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করে নিলেও গঙ্গাপ্রসাদের দাবি, আমার সময়কালের বাইরে যা ঘটেছে, তার দায় আমার নয়।
  • Link to this news (বর্তমান)