মোদিকে ঝালমুড়ি বিক্রি, বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে হত্যার হুমকি! তদন্ত শুরু
বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউকে প্রাণনাশের হুমকি এল পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে! ভোট প্রচারে এসে বিহারের বাসিন্দা এই বিক্রমের দোকান থেকে দশ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাতারাতি জঙ্গলমহলের ‘সেলিব্রিটি’ হয়ে গিয়েছিলেন বিক্রম। তাঁকেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এসেছে একাধিক ভিডিয়ো কল ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ। সবকটিই পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে। আতঙ্কিত বিক্রম ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঝাড়গ্ৰামের এসপি মানব সিংলা বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’
ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছিল জঙ্গলমহল। তার মধ্যেই বিক্রমকে প্রাণনাশের হুমকি। তা নিয়ে এখন তোলপাড় গোটা জঙ্গলমহল। গত ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্ৰাম স্টেডিয়ামে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার করতে এসেছিলেন। জনসভার শেষে ফেরার পথে গাড়ি থামিয়ে শহরের কলেজ মোড়ে বিক্রমের দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি কিনে খান। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। বহু মানুষ বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনতে ভিড় করতে থাকেন। সাংবাদিক ও ব্লগারদের মধ্যে দোকানে ছবি ও ভিডিয়ো তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে নির্বাচন মিটতেই বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন আবার প্রাণনাশের হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছেন বিক্রম ও তাঁর পরিবার।
বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভিডিয়ো কল করে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে বলা হয়েছে, তুমি আমাদের টার্গেট। তোমাকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্ৰাম থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি। এরপর পুলিশও খোঁজখবর করতে এসেছিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, ফোনে হুমকির বিষয়টি সামনে আসতেই দোকানের সামনে দুজন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। কলেজ মোড় সংলগ্ন বস্ত্র বিপণির মালিক শংকর ভুঁই বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাওয়ার পর বিক্রমের দোকানে দিনরাত ভিড় লেগে থাকে। বহু মানুষ এখানে আসে। যেসব নম্বর থেকে মেসেজ এসেছিল, সেগুলি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বলেই মনে হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুখময় শতপথী বলেন, পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।