• মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ময়দানে বাঁকুড়ার বিধায়করা
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, খাতড়া: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরদিনই এলাকার সমস্যা খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়করা। এদিন রাজ্যের মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালহকিকত খতিয়ে দেখেন। তিনি এদিন খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল ও রানিবাঁধ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা শহরের কেঠারডাঙা এলাকায় রেলের আন্ডারপাসের কাজ পরিদর্শন করেন। বড়জোড়ার নিকাশি ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে বলে স্থানীয় বিধায়ক বিল্বেশ্বর সিনহা জানিয়েছেন। 

    নীলাদ্রিশেখরবাবু বলেন, কেঠারডাঙা আন্ডারপাসের কাজের গতি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আমি এদিন রেলের আধিকারিকদের নিয়ে নির্মীয়মাণ আন্ডারপাস পরিদর্শন করেছি। একমাসের মধ্যে ওই আন্ডারপাস চালু হয়ে যাবে। তার আগেই আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে রেলের আধিকারিকরা আশ্বাস দিয়েছেন। 

    বিল্বেশ্বরবাবু বলেন, বর্ষায় যাতে বড়জোড়ায় নিকাশি সমস্যা প্রকট না হয়, সেজন্য এখন থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। হাতে বেশি সময় নেই। তার আগেই কাজ করতে হবে। ব্লক প্রশাসন ও বড়জোড়া থানার আধিকারিকদের নিয়ে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।

    রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুর হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ বিধানসভার স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। দুর্গাপুরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের পরদিনই রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও চত্বর ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে রোগী ও তাদের পরিজনরা পানীয় জলের সমস্যা, অপরিচ্ছন্নতা ও বেড সংখ্যা কম সহ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিএমওএইচ নিয়মিত থাকেন না বলেও অভিযোগ করা হয়। খাতড়া মহকুমা হাসপাতালেও একাধিক সমস্যা সামনে আসে। অভিযোগ, হাসপাতালে অর্থোপেডিক ও মানসিক রোগ সহ বিভিন্ন বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। পরিকাঠামোর অভাব, অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও পরিষেবার ঘাটতির কথাও জানানো হয় মন্ত্রীকে।

    পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৫ বছরের অব্যবস্থায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পরিদর্শনে এসেছি। জলের সমস্যা ও চিকিৎসকের ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিএমওএইচ, মহকুমা শাসক এবং বিএমওএইচদের উপস্থিতিতেই রোগীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রীও দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে ল্যাবরেটরির সমস্ত প্রয়োজনীয় মেশিন বসানো হবে। যাতে জঙ্গলমহলের মানুষকে টাকা খরচ করে বাইরে পরীক্ষা করাতে না হয়। বিএমওএইচের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে নিয়মিত হাসপাতালে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সমস্ত বিভাগে চিকিৎসক সহ ৩০০ বেডে উত্তীর্ণ করা হবে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালকে। এর পাশাপাশি তালডাংরার বিধায়ক সৌভিক পাত্র এদিন সিমলাপাল ব্লক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি কথা বলেন রোগী ও তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে। হাসপাতালের পরিবেশ সহ পরিষেবা  সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে পরিষেবা নিয়েও আলোচনা করেন।
  • Link to this news (বর্তমান)