• পশ্চিম মেদিনীপুরের নানা সমস্যা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক দিলীপের
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: দিনের শুরুটা ছিল সকালবেলার চায়ের আড্ডা দিয়ে। পরে কর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা, নিজের হাতে আম কেটে খাওয়ানোর মধ্য দিয়েই শুক্রবারের ব্যস্ত কর্মসূচি শুরু করলেন রাজ্যের গ্রাম উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পরে তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের নিয়েও বৈঠক সারলেন দিলীপ বাবু। 

    শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার ১৫ জন বিধায়ক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার একাধিক এলাকায় পরিকাঠামোগত সমস্যার বিষয় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয় বৈঠকে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থা, পানীয় জলের ঘাটতি, নিকাশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব উঠে আসে।বৈঠকে খড়্গপুর গ্রামীণ ও কেশপুর বিধানসভা এলাকার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পায়। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তব চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। মন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, মানুষের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি এদিনের কর্মসূচির একটি রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ, বিভিন্ন এলাকার তৃণমূলের বিধায়কদের এক মঞ্চে এনে সমন্বয়ের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁরা।এদিন বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আজ উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সকলকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃণমূলের বিধায়করাও তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, কেশপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শিউলি সাহাকে ঘিরেও এদিন রাজনৈতিক মহলে কিছু আলোচনা শোনা যায়। অভিযোগ, নির্বাচনে জয়ের পর এখনও পর্যন্ত তিনি কেশপুরে যাননি। বিষয়টি নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। যদিও এদিন বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী সোমবার কেশপুরে যাব। আজকের বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছি। কেশপুরের মানুষ আমাকে বিপুল সমর্থন দিয়ে জয়ী করেছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আগামী পাঁচ বছর এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। তবে কেশপুরজুড়ে সন্ত্রাস চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।
  • Link to this news (বর্তমান)