কথা রাখলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক, বেলদায় বসল ‘জনতার দরবার’
বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, বেলদা: নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মতো সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে খোদ নিজের কার্যালয়েই 'জনতার দরবার' বসালেন নারায়ণগড়ের নবনির্বাচিত বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি। ভোটের প্রচারে কথা দিয়েছিলেন, সবসময় এলাকায় থেকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং অভাব-অভিযোগ শুনে দ্রুত তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করবেন। সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেই শুক্রবার সকাল থেকে বেলদার বিধায়ক কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগে মাতলেন তিনি।
এদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা ধরে বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক মানুষের কথা অত্যন্ত খুঁটিয়ে শোনেন বিধায়ক। তাঁর কার্যালয়ে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। কেউ এসেছিলেন রাস্তার বেহাল দশার কথা জানাতে, তো কেউ আবার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে। নিকাশি নালা সংস্কার থেকে শুরু করে আইসিডিএস কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়ন— একাধিক দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হন তাঁরা। স্থানীয় বেলদা এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান দাবি ছিল বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার। পাশাপাশি, কাশীপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও মানুষ এসেছিলেন উজ্জ্বলা গ্যাসের সংযোগ পাওয়ার আর্জি নিয়ে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়েও দরবার করেন বেশ কয়েকজন। রাজনৈতিক কারণে আটকে থাকা মামলাগুলিতে পালাবদলের পর এবার গতি আসবে, এমনটাই আশা তাঁদের।মানুষের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনার পর বিধায়ক তাৎক্ষণিক কিছু সমস্যার সমাধান করে দেন। বাকি আবেদনগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে লিপিবদ্ধ করা হয়। রমাপ্রসাদ গিরি আশ্বাস দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বাকি সমস্যাগুলিরও সমাধান করা হবে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, সামনেই বর্ষা আসছে, তাই বেশিরভাগ অভিযোগই এসেছে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা সংক্রান্ত। এই বিষয়ে দ্রুত স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলিকে সক্রিয় করা হবে। ষোড়শ অর্থ কমিশন ও ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পের মাধ্যমে নিকাশি নালাগুলি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। -নিজস্ব চিত্র