নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর ও সংবাদদাতা, কান্দি: কালীঘাট থানার ওসি তথা কলকাতা পুলিশের ডিসি পদ মর্যাদার পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের কান্দির পৈতৃক বাড়িতে হানা দিল ইডি। প্রাসাদোপম বাড়ির তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকলেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। শুক্রবার সাত সকালেই কান্দি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়ায় এই ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। দুপুর পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে গেলেও ইডির আধিকারিকরা তদন্ত-তল্লাশি চালিয়ে যান। কান্দি থানার পুলিশ, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে রাজমিস্ত্রি ও কান্দির ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিককে শান্তনুর বাড়ির ভিতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে জেরা করেন তদন্তকারীরা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শান্তনুকে ক’দিন আগেই গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তি সহ তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ওই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তৈরি করতে অর্থের সংস্থান কোথা থেকে, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তার মধ্যেই ইডির নজরে আসে কান্দির শান্তনুর বিলাসবহুল পৈতৃক বাড়ি। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুই তিন বছরের মধ্যেই পুরনো এই বাড়ির সংস্কার করা হয়। আগে বাড়িটি কুটিরের মতো ছিল। এখন সেটি অট্টালিকা।
এদিন সকাল সাতটা নাগাদ পাঁচটি গাড়িতে আসেন ইডির ছ’জন তদন্তকারী অফিসার ও কেন্দ্রীয়বাহিনী। জওয়ানরা প্রথমেই বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলেন। বাড়ির দরজা বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও কেউ দরজা না খোলায় থানার দ্বারস্থ হয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে বাড়ির প্রধান দরজার তালা ভাঙানো হয়। তারপর ভিতরে ঢোকেন ইডির আধিকারিকরা।
বাইরের গেটে তালা ভেঙে ঢোকার পর আধিকারিকরা দেখেন,বাড়ির ভিতরের ঘরগুলিও তালাবন্ধ। সেগুলিরও তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারী দলের সদস্যরা। তবে ভিতরে ঢোকার সময় প্রতিবেশি আন্দুলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান মামনি রাজবংশী ও তাঁর স্বামী জগন্নাথ রাজবংশীকে সঙ্গে নেন তাঁরা। সকাল ১১টা নাগাদ সেখানে আসেন কান্দি বিএলএলআরও অসীম বিশ্বাসসহ আরও দু’জন ভূমি দপ্তরের কর্মী। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তনু সম্পত্তির বিবরণ পেতে বিএলএলআরওকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় যুবক সৌমেন দাসকেও নিয়ে আসা হয়। সৌমেন বাড়ি সংস্কারের সময় রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ফলে বাড়ির কোথায় কি রয়েছে, ওই যুবকের থেকে জেনে নেন অধিকারিকরা।
বাড়ির ভিতরে গিয়ে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেন, প্রায় ১০০ বছরের প্রাচীন বাড়ির আমূল সংস্কার করা হয়েছে। গোটা চত্বর সৌন্দর্যায়ণ করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ঘরে অন্তত চারটি এয়ার কন্ডিশন মেশিন বসানো রয়েছে। জল তোলার জন্য দু’টি সাব মার্সিবল পাম্পও বসানো রয়েছে। দোতলায় ওঠার সিঁড়ি থেকে বিভিন্ন ঘরের ভিতর বিদেশি নামি কোম্পানির দামি টাইলস ও মার্বেল বসানো রয়েছে। শান্তনুর বোন গৌরী সিংহ বিশ্বাস তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান।
এনিয়ে কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা জয়দেব ঘটক বলেন, ‘কান্দিতে এই প্রথম ইডি হানা দিল। তবে আইন তার নিজের পথেই চলবে। এখানে কোনো মন্তব্য করা যায় না।’ কান্দি শহর বিজেপি নেত্রী বিনীতা রায় বলেন, ‘এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এমনটা হওয়ার কথাই ছিল। কালীঘাটের প্রাক্তন ওসির যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, তার উৎস খুঁজে বের করবেই ইডি।’ নিজস্ব চিত্র