• দীর্ঘ ৩ বছর পর সমবায়ের শূন্যপদ পূরণের তোড়জোড় রাজ্যের, দুর্নীতির টাকা উদ্ধারের হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন বছরের বেশি সময় ধরে সমবায় সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কোনো নিয়োগ হয়নি। ওয়েবেল টেকনোলজির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নানা কারণে পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। সিবিটি মাধ্যমে পরীক্ষা নিতে সফ্টওয়ার তৈরি করা হয়েছে, যাতে ‘হিউম্যান ইন্টারফেয়ারেন্স’ ছাড়াই হবে পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে স্টেট ডেটা সেন্টারে ১০০ জন প্রশ্ন প্রস্তুতকারকের দ্বারা ১০ হাজার প্রশ্ন আপলোড করা থাকবে। পরীক্ষার সময় এই ১০ হাজার প্রশ্নের মধ্যে থেকে ৫০টি প্রশ্ন বেছে দেবে এআই। ফলে প্রশ্ন প্রস্তুতকারকরাও জানবেন না যে পরীক্ষায় কোন প্রশ্নগুলি এল। পরীক্ষা মিটলে প্রশ্নগুলির উত্তরও স্বয়ংক্রিয় ভাবে পোর্টালে চলে আসবে। ফলে পরীক্ষার্থীরা সেদিনই ফলাফল জেনে নিতে পারবেন।

    কিন্তু কবে হবে পরীক্ষা? ওবিসি সংক্রান্ত সমস্যায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া। নতুন সরকার আসায় সেই সমস্যা মিটেছে। এরপর শ্রমদপ্তর ১০০ পয়েন্ট রোস্টার প্রকাশ করলেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মোট ৩১৫টি পদে নিয়োগের কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংকে ৫০টি ক্লারিকাল পোস্ট। এছাড়াও জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, রায়গঞ্জ, মালদহ, নদীয়া এবং হুগলি— ছ’টি জেলা কো-অপারেটিভ ব্যাংকে ৮৫টি ক্লারিকাল পোস্ট এবং আরও ২৫টির জন্য ১০৩টি ক্লারিকাল পদে নিয়োগ হবে। বাকিগুলি স্ক্রিনিং কমিটির অধীনে রয়েছে।

    রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে গিয়েছে বহু সমবায় সমিতির বোর্ড। আবার অনেক সমিতি রয়েছে, যেখানে নির্বাচিত বোর্ড নেই। এমন প্রতিটি সমিতিতে নির্বাচন করিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে সমবায় পরিচালনার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনোভাবেই সমিতির সদস্য নন, এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে কমিটির মাথায় বসানো যাবে না। এই প্রেক্ষাপটে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার হুংকার, ‘বিগত সরকারের আমলে যাঁরা সমবায়ের টাকা এবং সমবায়ের মাধ্যম দেওয়া সার বেচে কোটি কোটি টাকা লুটেছেন, তাঁরা নিজেরা এগিয়ে এসে টাকা ফেরত দিয়ে যান। না হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’ 

    রাজ্যে মোট সমবায় সমিতি বা প্যাক্সের সংখ্যা প্রায় ৪৭০০। এসব সমিতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক—সব ক্ষেত্রেই অডিট করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমবায়ের সম্পত্তিও বেচে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মন্ত্রীর। সার দুর্নীতিতে সরাসরি তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা জড়িত বলেও অভিযোগ মন্ত্রীর। এছাড়া, সমবায় ব্যাংকগুলির মাধ্যমে দেওয়া ঋণের কত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং সরকারকে কত টাকা ভরতুকি দিতে হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। শুক্রবার দপ্তরের সচিব কৃষ্ণ গুপ্তার পাশাপাশি পদস্থ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। 

    সমবায় দপ্তরের মাধ্যমে এ রাজ্যে ১৬টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প লাগু হওয়ার কথা। কিন্তু ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক এবং কৃষি সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্তরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাননি। এবার সেই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা সুনিশ্চিত করারও উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য।
  • Link to this news (বর্তমান)