• তৃণমূলের ৫৪ কাউন্সিলারের মধ্যে ৪১ জনের পদত্যাগ ঘিরে ডামাডোল
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: ভাটপাড়া ও গারুলিয়া পুরসভার সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলারই পদত্যাগ কররেন। শুক্রবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন রেবা রাহা সহ ৩০ জন কাউন্সিলার পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। শতাব্দীপ্রাচীন এই পুরসভায় মোট কাউন্সিলারের সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে দু’জন মারা গিয়েছেন। বর্তমানে আছেন ৩৩ জন। তার মধ্যে ৩০ জন পদত্যাগ করলেন। এই সূত্রে ভাটপাড়া পুরসভায় অবিলম্বে প্রশাসক বসানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এই আবেদন পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গারুলিয়া পুরসভায় মোট কাউন্সিলারের সংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১৯ জনই তৃণমূলের। তাঁদের মধ্যে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, সিআইসি সহ ১১ জন এদিন মহকুমাশাসককে তাঁদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।  

    রাজ্যে পালাবদলের পর ভাটপাড়া সহ রাজ্যের অনেক পুরসভায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। ভাটপাড়ায় চেয়ারপার্সন সহ সিআইসি সদস্যরা পুরসভায় আসছিলেন না। সমস্ত কাজকর্ম শিকেয় উঠেছিল। অস্থায়ী কর্মীরা বেতন পাচ্ছিলেন না। দিন কয়েক আগে নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং, জগদ্দলের বিধায়ক ডঃ রাজেশ কুমার পুরসভায় গিয়ে এগজিকিউটিভ অফিসার এবং ফিনান্স অফিসারের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাগরিক পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দেন তাঁরা। মানুষ যাতে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন অর্জুন। 

    কিন্তু কাউন্সিলাররা জানিয়েছেন, তাঁরা ভয়ে পুরসভায় যেতে পারছেন না। ফলাফল ঘোষণার পর থেকে অনেকে বাড়িছাড়া। তাই বাধ্য হয়েই চেয়ারপার্সন সহ কাউন্সিলাররা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন। 

    শুক্রবার ‘মজদুর ভবনে’ অর্জুন সিং, রাজেশ কুমার, পবন সিং এবং সুদীপ্ত দাস সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন, ভাটপাড়ায় অচলাবস্থা চলছে। ৩০ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু পুরসভা তো কাজ বন্ধ রাখতে পারে না। পানীয় জল, নিয়মিত জঞ্জাল সাফাইয়ের মতো কাজগুলি করতেই হবে। এর জন্য পুরসভায় অবিলম্বে পাঁচজনের একটি প্রশাসনিক বোর্ড তৈরি করার দাবি তোলেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি থেকে ফিরলেই তাঁকে এই প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান অর্জুন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, পুরসভার কাজকর্মে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তার প্রত্যেকটির তদন্ত হবে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দুর্নীতি দমন করা হবে। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবজ্যোতি ঘোষ দুর্নীতির অভিযোগ কার্যত স্বীকার করে নিয়ে দাবি করেন, ‘কাজ করার সুযোগ পাইনি। অনেক প্রকল্পে পাঠানো টাকার সঠিক ব্যবহার হয়নি। কাজ করতে পারা যাচ্ছে না। তাই কাউন্সিলার থেকে লাভ কী!’ 

    অন্যদিকে, নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদের দুই সদস্য পার্থ দাশগুপ্ত ও শেখর ভৌমিক শুক্রবার এগজিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। কাউন্সিলার অঞ্জনা চক্রবর্তীও পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। প্রসঙ্গত, শেখরবাবু বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের খুড়তুতো ভাই। 
  • Link to this news (বর্তমান)