বেসামাল তৃণমূল, বারাসত-বসিরহাটের বহু পঞ্চায়েত এবং পুরসভায় অচলাবস্থা, বহু জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে দেখাই যাচ্ছে না
বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির ধাক্কায় বেসামাল তৃণমূল। তার উপর একের পর এক নেতার গ্রেপ্তারি। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বসিরহাট মহকুমার বহু পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও পুরসভায় এখন কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, যাঁরা এতদিন প্রশাসনিক কাজ সামলাতেন, তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে খবর। কোথাও প্রধান আসছেন না পঞ্চায়েত অফিসে, কোথাও কাউন্সিলারের ফোন বন্ধ। সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ঘুরেও জনপ্রতিনিধির দেখা পাচ্ছেন না। তবে বিজেপি অভয় দিয়ে চলেছে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ বলে। তাদের বক্তব্য, দোষ করলে শাস্তি হবে। কিন্তু নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করা চলবে না।
স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বহু এলাকায় ছোটোখাটো প্রশাসনিক কাজও আটকে যাচ্ছে। কারণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নেই। বারাসত মহকুমার হাবড়া, দেগঙ্গা, অশোকনগর ও বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ, ভোটের আগে যাঁদের প্রতিদিন দেখা যেত, ভোটের ফল ঘোষণা হতেই তাঁদের অনেককে একবারের জন্যও দেখা যায়নি। একই ছবি বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ, হাড়োয়া, সন্দেশখালি ও হাসনাবাদ এলাকায়ও। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, অফিসে গিয়েও প্রধান বা পঞ্চায়েত সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তৃণমূলের অন্দরেই জল্পনা, গ্রেপ্তারির আতঙ্কই তাঁদের এই অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বসিরহাটের এক পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ। সবাই ভয়ে রয়েছে। কে কখন কোন মামলায় জড়িয়ে পড়বে, তা নিয়ে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। তাই অনেকেই এখন দূরত্ব রাখছেন। ফোন পর্যন্ত ধরছেন না।’ তবে শুধু গ্রেপ্তারির ভয় নয়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভও এই পরিস্থিতির নেপথ্যে বড়ো কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরেই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ছিল তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিরুদ্ধে। আবাস যোজনা থেকে বার্ধক্য ভাতা, রাস্তা নির্মাণ থেকে জলপ্রকল্প— নানা ক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই ক্ষোভ আরও বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। বারাসতের সুমন দে নামে এক বাসিন্দার কথায়, ‘এতদিন মানুষ ভয়ে মুখ খুলত না। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। যাঁরা টাকা নিয়ে কাজ করাতেন, তাঁরাই এখন এলাকায় আসতে ভয় পাচ্ছেন।’ এই আবহে সংগঠন বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা, প্রশাসনিক কাজে সহায়তা এবং ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই’-এর বার্তা নিয়ে মাঠে রয়েছে গেরুয়া শিবির। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি রাজীব পোদ্দার বলেন, ‘যারা মানুষের উপর অত্যাচার করেছে, টাকা নয়ছয় করেছে, তারা কর্মফল ভোগ করছে। তবে রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। সবাইকে বলব, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নাগরিক পরিষেবার দিকটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’ একই কথা বলছেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এত অত্যাচার করেছে যে এখন ভয়ে তারা বাড়ি থেকে বেরতে পারছে না। আমরা নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে অফিসে আসার অনুরোধ করছি।’