নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কোন্নগর স্টেশনের আন্ডারপাসে অবৈধ উপায়ে টোল আদায়ের ঘর ভেঙে দেওয়া হল। কোন্নগর তথা উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী নিজে উপস্থিত থেকে বুলডোজার চালিয়ে টোল আদায়ের ওই ঘরটি ভেঙে দিলেন। শুক্রবারের ওই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোন্নগরে। বহু বছর ধরে অবৈধভাবে টোল আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিধায়ক। যদিও তৃণমূল পরিচালিত কোন্নগর পুরসভার কর্তাদের দাবি, বাম আমলে রাজ্য সরকার ওই টোল চালু করেছিল। শুক্রবার পুর চেয়ারম্যান স্বপন দাস নিজে এই বুলডোজার কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। পুরসভাই এই টোল ঘর ভাঙার কাজ করে।
এদিন বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলের অনিয়মের প্রাসাদের একটি দরজা এদিন ভাঙা হয়েছে। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে টোল আদায় করা হতো। এভাবে তৃণমূলের নেতারা কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। নির্বাচনের সময় আমি বলেছিলাম, প্রতিটি অনিয়মের বিচার হবে। এদিন থেকেই তা শুরু হল। এবার উত্তরপাড়ায় অবৈধ ভেড়ির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। সরকারি সম্পত্তির যাবতীয় কর সরকারের ঘরে জমা হবে, মানুষের জন্য কাজ হবে। তৃণমূলের নেতাদের পকেট ভরানোর মৌরসিপাট্টা এখন থেকে বন্ধ। এনিয়ে তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৮ সাল থেকে পুরসভার তত্ত্বাবধানে এই টোল আদায় চলছে। ওই সময় বামেরা রাজ্যে ও পুরসভায় ক্ষমতায় ছিল। তাঁরাই এক ব্যক্তিকে দীর্ঘকালীন লিজে টোল চালাতে দিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার পরে জানতে পারি, ওই টোল জেলা পরিষদের জায়গায় বসানো হয়েছে। জেলা পরিষদ পুরসভাকে তা চালাতে দিয়েছে। সম্প্রতি আমি এর বাস্তবতা জানতে চেয়ে জেলা পরিষদকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো জবাব এখনও পাইনি। পুরসভা ওই টোল থেকে বছরে ১২ হাজার টাকা পেত। ২০২২ সালে তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছিল। সমস্ত নথি আছে। পুরসভার তরফে বেআইনি কিছু করা হয়নি।
স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্ডারপাসে রাস্তা সংরক্ষণ, আলোর ব্যবস্থা ও জল জমার সমস্যা মেটানোর শর্তে প্রায় ২০ বছর আগে টোল চালু হয়েছিল। চারচাকার গাড়ি পিছু পাঁচ টাকা করে টোল নেওয়া হতো। লরি বা পণ্যবাহী গাড়ির জন্য পৃথক টোল ধার্য ছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, টোল আদায় হতো বলেই ওই এলাকার রাস্তা ঠিকঠাক ছিল। আন্ডারপাসে জল জমার সমস্যাও টোল আদায়কারীরা মিটিয়ে দিতেন। তাতে গণপরিবহণ স্বাভাবিক থাকত। শুক্রবারের পর থেকে অবশ্য আলো সরবরাহ ও আন্ডারপাসের জল জমার সমস্যা মেটানোর দায় পুরসভার উপরে চাপিয়েছেন বিধায়ক। তবে টোলটি বৈধ না অবৈধ, তা নিয়ে প্রশ্নের সমাধান অবশ্য হয়নি।