• জমি দখলের মামলায় ১০টি স্থানে একযোগে ইডি তল্লাশি
    বর্তমান | ২৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখলের মামলায় শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে অভিযানে নামল ইডি। কসবায় কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের এক সাব ইনস্পেক্টর ও কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মুর্শিদাবাদের পৈতৃক বাড়ি সহ একযোগে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালাল এজেন্সি। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক নথি, জমি-বাড়ির দলিল সহ বিভিন্ন সামগ্রী। একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের কালো টাকা কোন কোন ব্যবসায়ীর কাছে খাটত, তাঁদের চিহ্নিত করেছেন এজেন্সির আধিকারিকরা।

    ইডি হেফাজতে থাকা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সোনা পাপ্পুকে জেরা করে তাদের কালো টাকা কোথায় কোথায়  খাটছে, তার তথ্য পান তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে শান্তনুর ডান হাত বলে পরিচিত অফিসার রুহুল আমিন আলির নাম উঠে আসে। কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত এই সাব-ইনস্পেক্টর শান্তনুবাবুর কথামতো বিভিন্ন কাজ করতেন বলে জেনেছেন তাঁরা।  তার সঙ্গে জানা যায়, ভবানীপুর ও নারকেলডাঙার দুই ব্যবসায়ীর কাছেও কালো টাকা খাটছে। সেই কারণেই ইডির একাধিক টিম শুক্রবার বিভিন্নভাবে ভাগ হয়ে কসবায় রুহুল আমিনের বাড়ি, ভবানীপুর ও নারকেলডাঙায় ব্যবসায়ী তথা প্রোমোটার অতুল কাটারিয়ার বাসস্থান ও অফিস, রয়েড স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের দুটি হোটেলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। অন্য একটি টিম মুর্শিদাবাদের কান্দিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়িতে হানা দেয়। তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে টিম। জরাজীর্ণ বাড়িটিকে যে বিপুল অর্থ খরচ করে সংস্কার করা হয়েছে, প্রতিটি ঘরে এয়ারকন্ডিশনার মেশিন বসানো হয়েছে এবং দামি দামি গ্রানাইট পাথর ব্যবহার হয়েছে, তাতে চমকে যান তদন্তকারীরা।  

    এই সমস্ত ব্যবসায়ী, হোটেল মালিকের অফিস ও বাড়িতে হানা  নিয়ে ইডির দাবি. বিভিন্ন থানায় ওসি পোস্টিংয়ের জন্য ইনস্পেক্টররা দেখা করতেন শান্তনুবাবুর সঙ্গে। তিনি কাউকেই নিরাশ করতেন না।  সরাসরি কারও কাছ থেকে টাকা নিতেন না। যে বা যাঁরা ওসি হতে চেয়ে দেখা করেছেন, শান্তনুবাবুর ঘনিষ্ঠরাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এরপর টাকা পেমেন্ট করতে বলা হতো জয় কামদারের কাছে। সেই নগদ জয় নিজের ব্যবসায়ে লগ্নি করতেন। আর বাকি টাকা ভবানীপুর ও নারকেলডাঙার ব্যবসায়ী তথা প্রোমাটারের ব্যবসায় ঢালতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। ইডি তদন্তে উঠে এসেছে, জোড়াসাঁকো এলাকার প্রাক্তন এক বিধায়কের ভাই শান্তনুবাবাবুর  ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কালীঘাট থানায় তিনি নিয়মিত বৈঠক করতেন প্রাক্তন এই অফিসারের সঙ্গে। তাঁর হোটেলেও শান্তনুবাবুর কালো টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে এজেন্সির দাবি। সকলকেই নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)