সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: দমদম থেকে এসেছেন কুণাল সরকার। কোলে সাত মাসের মেয়ে। একরত্তির গায়ে লাল-হলুদ জার্সি। জনসমুদ্রের মধ্যে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। কিন্তু বাবা চান আগামী প্রজন্মের হাতে মশাল তুলে দিতে। আর বড়ো হয়ে সে বলতে পারে — ‘সেদিন আমিও মাঠে ছিলাম।’ ৭৮ বছরের দীপালি দাস আবার নাতি অতূনের হাত ধরে এসেছেন। এই বয়সে পা আগের মতো চলে না। তবুও আসতেই হত। ২২ বছরের শাপমোচন বলে কথা। শুধু কুণাল বা দীপালি দেবী নন, শুক্রবার দুপুর থেকেই লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে মানুষের ঢল। হাজার নয়, হাজার হাজার। গায়ে প্রিয় ক্লাবের জার্সি, মুখে লাল-হলুদ আবির, আর বুকে স্পর্ধার মশাল। পড়ন্ত বিকেলে বহু প্রতীক্ষিত আইএসএল ট্রফি মাঠে ঢুকতেই ভাঙল আবেগের বাঁধ। গ্যালারিতে সমর্থকদের ‘জয় ইস্ট বেঙ্গল’ শব্দব্রহ্মে কাঁপছে ময়দান।
শুরুতে ক্লাবের লনে পতাকা উত্তোলন করলেন কোচ অস্কার। তারপর একে একে মাঠে দেখা গেল মিগুয়েল, এডমুন্ড, শৌভিকদের। আর শেষে লাল-হলুদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্প্যানিশ কোচ। তাঁর নাম সাউন্ড বক্সে ভেসে আসতেই গর্জে উঠল গ্যালারি। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে, শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার সহ লগ্নিকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের গলায় পরিয়ে দিলেন মেডেল। অবশেষে এল সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ক্যাপ্টেন শৌভিক, রশিদদের হাতে তুলে দেওয়া হল আইএসএল ট্রফি। গ্যালারি তখন আনন্দে মাতোয়ারা। গিল, এডমুন্ডরাও ট্রফি নিয়ে নাচানাচি করছেন। আর কোচ অস্কার? তিনি সমর্থকদের দিকে এগিয়ে গেলেন। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তাঁদের বোঝাতে চাইলেন ‘আমি তোমাদেরই একজন।’ কয়েকদিন আগেই মরশুম শেষে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন অস্কার। এদিন তাই মাঠ ছাড়ার সময় কোচের গাড়ি ঘিরে ধরলেন সমর্থকরা। একটাই আকুতি—‘প্লিজ স্টে।’ মাঠে তখনও সেলিব্রেশন চলছে। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে শৌভিক বলছিলেন, ‘হায়দরাবাদের হয়েও আগেও আইএসএল জিতেছি। তবে এই মুহূর্ত সত্যিই স্পেশাল।’ ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক গিল বলছেন, ‘এটা আমার কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত।’
একসময় উৎসব থামল। মাঠ ফাঁকা। কিন্তু মাথা নীচু নয়, চেতনায় স্পর্ধার মশাল জ্বেলে বীরের মত মাথা তুলে মাঠ ছাড়লেন সমর্থকরা। এবার তাঁদের ক্লাব শুধু ২২ বছরেই অপেক্ষা ঘোচায়নি। রেকর্ড গড়ে পুরুষ ও মহিলা— দু’দলই চ্যাম্পিয়ন এএফসিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।