মাত্র ১৪ ঘন্টায় এভারেস্ট (৮৮৪৮মি) শীর্ষ থেকে পৃথিবীর চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে (৮৫১৬মি) শীর্ষে সফল আরোহণ। হিন্দমোটরের ছেলে শুভম চ্যার্টাজির (সবাই চেনে রনি নামে) আগে কোন বাঙালি পর্বতারোহী এই কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।
গত বুধবার সামিট ক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে থেকে বিরাট ট্রাফিক জ্যামে নাজেহাল হয়ে দুপুর সোয়া দুটো নাগাদ এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ শুভমের। বেস ক্যাম্প থেকে ফোনে বলছিলেন, ‘সেদিনের জার্নিতে প্রায় ২৫৮ জন পর্বতারোহী এবং তাদের শেরপা গাইড শীর্ষ আরোহণের জন্য রওনা হন। দুর্ভাগ্যের যে এদের অধিকাংশের কোনও ট্রেনিং নেই। পাহাড় সম্বন্ধে চূড়ান্ত অজ্ঞতা। স্রেফ টাকা আছে বলে চলে এসেছেন। এই জন্যই পাহাড়ে এত দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকৃত পর্বতারোহীরা বিপদে পড়েন। এর ফলেই আমার এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়।’
শীর্ষ জয়ের আনন্দে উচ্ছ্বসিত শুভম হিন্দমোটর থেকেই ঠিক করেছিলেন, যদি এভারেস্ট আরোহণ করতে পারেন, তা হলে লোৎসে শীর্ষ স্পর্শ করে ফিরবেন। কথা রেখেছেন। মাত্র ১৪ ঘন্টায় এভারেস্ট থেকে লোৎসে শৃঙ্গ বিকাল চারটেয় (বৃহস্পতিবার) আরোহণ করে সেদিনই দু নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছে যান। বেস ক্যাম্প থেকে তাঁর সংযোজন, ‘লোৎসে পৌঁছনোর সময় আবহাওয়া খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ঈশ্বরের আশীর্বাদে সফল হয়েছি।’
রনির লক্ষ্য, বিশ্বে কনিষ্ঠতম হিসেবে সমস্ত মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং আগ্নেয়গিরির উৎস মুখ আরোহণ করা। ইতিমধ্যেই তিনি আফ্রিকা, ইউরোপ, ওশিয়ানিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং আগ্নেয়গিরির উৎস মুখ আরোহণ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতেই আন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং আগ্নেয়গিরির উৎস মুখ স্পর্শ করে এসেছেন। হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০টির মতো পথে ট্রেকিং করেছেন ।
কলকাতা ক্লাইম্বার সার্কেলের প্রতিশ্রুতিমান পর্বতারোহী রনি স্কুবা এবং স্কাই ডাইভিংয়েও যথেষ্ট দক্ষ। যদিও পর্বতারোহণই এখন তার ধ্যান–জ্ঞান। রনির এভারেস্ট আরোহণে গর্বিত রাজ্য। এখন পর্যন্ত এই রাজ্যের ৩৯ জন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ স্পর্শ করেছেন। বাংলাভাষী হিসেবে আছেন ২৯ জন।