এই সময়: করোনার সময়ে যে ধরনের কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া আটকাতে দেশের বিমানবন্দরগুলিতে কার্যত সেই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করার নির্দেশ দিল ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। শুক্রবার এই নির্দেশিকার পরেই কেরালার কোচি বিমানবন্দরে পুরো মাত্রায় তা প্রয়োগ করাও শুরু হয়েছে।
কঙ্গো–সহ আফ্রিকার একাংশে প্রাণঘাতী ইবোলার সংক্রমণ ছড়ানোয় দিল্লিতে ২৮-৩১ মে ভারত ও আফ্রিকান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সামিট স্থগিত হয়েছিল আগেই। এ বার ১-২ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের প্রথম ‘বিগ ক্যাট সামিট’–ও পিছিয়ে গেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য।
ডিজিসিএ শুক্রবারের নির্দেশিকায় জানিয়েছে, আফ্রিকার মূলত কঙ্গো এবং উগান্ডায় ইবোলা ছড়িয়েছে। এমনকী, দক্ষিণ সুদানের মতো তাদের প্রতিবেশী দেশও সন্দেহের বাইরে নয়। এই আবহে সরাসরি বা অন্য দেশ ঘুরে যে সব ফ্লাইট সেখান থেকে ভারতে আসছে, তাদের সমস্ত যাত্রী ও ক্রু–দের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। গত ২১ দিনে যাত্রী বা ক্রু ইবোলা আক্রান্ত দেশে গিয়েছেন কি না, এই সময়কালে তাঁর জ্বর, দুর্বলতা, পেশির ব্যথা, গলা ব্যথা, বমি, ডায়ারিয়া, র্যাশ বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে কি না — তা জানাতে হবে সেল্ফ–ডিক্লারেশন ফর্মে।
যে সমস্ত এয়ারলাইন্সকে এই নিয়ম মানতে হবে, তাদের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো–র মতো ভারতীয় এয়ারলাইন্স যেমন রয়েছে, তেমনই নিয়মিত কলকাতা থেকে যাতায়াত করা এমিরেটস, ইতিহাদ এবং কাতার এয়ারওয়েজ়ও রয়েছে। এই সব এয়ারলাইন্সের সমস্ত ফ্লাইটে ঘোষণা করে যাত্রীদের সতর্ক করতে হবে। কোনও যাত্রীর সেই উপসর্গ থাকলে, তাঁকে বিমানের একেবারে পিছনের দিকে খালি আসনে বসাতে হবে। এমনকী, পারলে তাঁর আশপাশে তিনটি রো ফাঁকা রাখতে হবে। ওই যাত্রীর আশপাশের যাত্রীদেরও মাস্ক পরতে হবে। ডিজিসিএ–র নির্দেশ, প্রতিটি ফ্লাইটে এক জন কেবিন ক্রু–কে এই কাজে আলাদা করে নিয়োগ করতে হবে। অন্যরা উপসর্গ থাকা যাত্রীর ব্যবহৃত শৌচালয়ে যেতে পারবেন না। ফ্লাইটে পর্যাপ্ত পিপিই পোশাক ও মাস্ক মজুর রাখতে হবে। কোনও ফ্লাইটে আক্রান্ত যাত্রী পেলে ল্যান্ড করার পরে সেই বিমানকে আইসোলেশন বে–তে নিয়ে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকেই কোচি বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাত্রীদের কেউ গত ২১ দিনের মধ্য ইবোলা আক্রান্ত দেশে গিয়েছিলেন কি না। শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড–ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মধ্যে কেরালা থেকেই সবথেকে বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বিদেশে কাজে যান।
এদিকে দিল্লিতে ‘বিগ ক্যাট সামিট’ পিছিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি ইবোলার কথা উল্লেখ করা না-হলেও জানানো হয়েছে, আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ বাঘ-সহ বিগ ক্যাট সংরক্ষণের কাজে আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামিটে তাদের সার্বিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত থাকছে। তবে বিশ্বে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে ভারত তাদের গুরুদায়িত্ব পালন করতে থাকবে, এই আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে সরকারি প্রেস বিবৃতিতে। সামিটের নতুন নির্ধারিত সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।