• যাদবপুরে কুকুর বাঁচাতে ৫৮০ জনের ডেপুটেশন
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক পথকুকুরের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে একাংশের মধ্যে। মূলত বাইরে থেকে আসা কুকুরের দৌরাত্ম্যেই আবাসিক ও পড়ুয়ারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কলকাতা পুরসভাকে চিঠি দিয়ে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন আবাসন এলাকা থেকে কুকুর ধরে অবিলম্বে টিকাকরণ ও নির্বীজকরণের আবেদন জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিকল্যাণ কমিটির প্রস্তাব— ক্যাম্পাসে যত্রতত্র কুকুর বা বিড়ালকে খাওয়ানো নিষিদ্ধ হোক, যাতে বাইরের কুকুর ভিতরে না ঢোকে।

    এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়াদের একাংশ ও পশুপ্রেমীরা। শুক্রবার উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে ৫৮০ জনেরও বেশি স্বাক্ষর সম্বলিত একটি প্রতিবাদপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কমিটির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অবৈজ্ঞানিক। এর উদ্দেশ্য পশুকল্যাণ নয়, বরং ক্যাম্পাস থেকে কুকুর তাড়ানো। ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৬০টি কুকুর রয়েছে। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অভিজিৎ গুপ্ত ও পশুপ্রেমী পড়ুয়ারা জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই নিজেদের খরচে ক্যাম্পাসের ১৫টি কুকুরের নির্বীজকরণ ও দশটির টিকাকরণ করিয়েছেন। তাঁদের মতে, খাওয়ানো নিষিদ্ধ করার অর্থ কুকুরগুলিকে অভুক্ত রাখা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সহমর্মিতার সংস্কৃতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

    বিতর্কের আবহে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে কুকুরকে খাওয়ানোর বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং পশুদের প্রতি মানবিকতা বজায় রেখেই এই সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)