• টোটোর ফাঁস থেকে মুক্তি কবে? বিধায়কের দিকে তাকিয়ে ওঁরা
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • রূপক মজুমদার, বর্ধমান

    বর্ধমান শহরের রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য প্রতিদিন বাড়ছে। এতদিন পর্যন্ত শহরের মানুষ টোটো নিয়ন্ত্রণের জন্য আবেদন জানালেও কেউ কথা শোনেননি। প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস একবার উদ্যোগী হলেও দলের শ্রমিক নেতা থেকে জেলা নেতাদের চূড়ান্ত অসহযোগিতায় বন্ধ হয় সেই পরিকল্পনা। নীরব থেকেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পরে সাধারণ মানুষের আশা, নতুন বিধায়ক তার সমাধান করবেন।

    সুভাষপল্লির বাসিন্দা সুনেত্রা সাহা যেমন বলছেন, ‘শহরে টোটো চলুক, তবে তা থাকুক নিয়ন্ত্রণে। টোটোর দাপটে রাস্তায় পা ফেলা যাচ্ছে না। আশা করি, নতুন সরকার, নতুন বিধায়ক তার সমাধান করবেন।’ বড় নীলপুরের বাসিন্দা প্রীতম চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, ‘টোটোর সংখ্যা যে হারে বেড়েছে, তাতে রাশ না–টানলে কোনওদিন তা বাড়ির ভিতরেও ঢুকে পড়বে। নতুন বিধায়কের কাছে অনুরোধ, এটা নিয়ন্ত্রণ করুন। এ ভাবে সভ্য শহর চলতে পারে না।’

    ২০২৩–এর ফেব্রুয়ারিতে বর্ধমান পুরসভা শহরে ৩৬০০ টোটো চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। এই মুহূর্তে সেই সংখ্যা ১৭ হাজারেরও বেশি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা মূলত বর্ধমান পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। বর্ধমান–১ ব্লকের কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকা ছাড়া ৩৫টি ওয়ার্ডেই চলছে টোটোর দাপট। কোনও সিগনালে একবার দু’মিনিট দাঁড়ালেই লম্বা হয়ে পিছনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ৪০–৫০টি টোটো। বিসি রোডের বাসিন্দা জগন্নাথ সাহার কথায়, ‘পুরসভা কঠোর না–হলে এই অত্যাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

    শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ ভাবে তৈরি হয়েছে টোটো স্ট্যান্ড। পুরসভা নির্দেশিত রিকশা স্ট্যান্ডেও দাঁড়িয়ে পড়ছে টোটো। পারবীরহাটার বাসিন্দা জয়ন্ত বিশ্বাস বললেন, ‘কার্জন গেট, স্টেশন, নার্স কোয়ার্টার মোড় থেকে রাজবাড়ির সামনে রাস্তা জুড়ে টোটো দাঁড়িয়ে থাকে। পুলিশ বা পুরসভা ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।’

    কার্জন গেট থেকে বিসি রোডে ঢোকার মুখেই বাঁ দিকে পুরসভার নির্ধারিত রিকশা স্ট্যান্ড। টোটো দাঁড়াচ্ছে এখানেও। দেবু দাস নামে এক রিকশা চালকের মন্তব্য, ‘আমাদের পেটে লাথি পড়েছে টোটোর জন্য। আমাদের স্ট্যান্ডও দখল করে নিয়েছে।’ হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আনন্দ সাহার বক্তব্য, ‘একে এই রাস্তা চওড়া নয়, তার উপরে একদিকে টোটোগুলি সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।’ বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকারের ব্যাখ্যা, ‘টোটো নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু একশ্রেণির টোটো চালক তা হতে দেয়নি।’

    বিজেপি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বললেন, ‘টোটো নিয়ে ভাবনাচিন্তা রয়েছে। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’ জেলা বিজেপির মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলছেন, ‘এই শহরে ৩৫টি ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলাররা টোটো নামিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আগামী দু–তিন মাসের মধ্যেই টোটোর বৈধতা সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয় নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বদলাবে পরিস্থিতি। বহিরাগতরা আর থাকবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)