চার লাখ দিলেই পার স্টাফ সিলেকশন বৈতরণী! উত্তরপ্রদেশে বড় চক্রের পর্দাফাঁস
প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
নিট কেলেঙ্কারির মধ্যেই এবার আরেক কেলেঙ্কারির হদিশ। উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সন্ধান পেল এক এমন চক্রের যারা অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের স্টাফ সিলেকশন-সহ আরও নানা পরীক্ষায় পাশ করানোর জন্য মোটা টাকা নিত। এক অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রে হানা দিয়ে তদন্তকারীরা সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। যাদের মধ্যে রয়েছে চক্রের চাঁইও। ঘটনাস্থল থেকে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ও পরীক্ষার নানা নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করত এই চক্র? তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সরাসরি পরীক্ষার ওয়েবসাইট হ্যাক করত দুষ্কৃতীরা। বরং তারা প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করত। যার সাহায্যে পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল সার্ভারকে ‘বাইপাস’ করে দেওয়া যেত। একটি স্ক্রিন শেয়ারিং ভিউয়ার অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থাকা সমাধানকারীদের কাছে প্রশ্নপত্র চলে যেত। তারপর তা সমাধান হয়ে গেলেই সেটা পৌঁছে যেত পরীক্ষার্থীদের কাছে। এর আগে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স, সেক্রেটারিয়েট সিকিউরিটি ফোর্স কনস্টেবল জিডি, অসম রাইফেলস রাইফেলম্যান পরীক্ষার মতো নানা পরীক্ষাতেই তারা কারচুপি চালিয়েছিল। অবশেষে ফাঁস বড় কেলেঙ্কারি।
আগে থেকেই খবর ছিল। সেইমতো ‘বালাজি ডিজিটাল জোন’ নামে গ্রেটার নয়ডার এক পরীক্ষাকেন্দ্রে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকেই বমাল গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্তরা। দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় এই চক্র। এর সঙ্গে আরও কেউ কেউ যুক্ত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে নিটের প্রশ্ন ফাঁস ঘিরে চাঞ্চল্য দেশজুড়ে। গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। তারপর দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। বাতিল হয় নিট।