• মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ানো সেই বিক্রমকে হুমকি! দোকানের সামনে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী, বসল সিসি ক্যামেরাও
    এই সময় | ২৩ মে ২০২৬
  • অরূপকুমার পাল ও বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    হুমকি ফোন পেয়েছেন বিক্রম। পুরো নাম বিক্রম কুমার সাউ।

    তা নিয়ে তেমন হইচইয়ের কথা ছিল না, যদি না স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝাড়গ্রামে এসে তাঁর দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেতেন। যে ঝালমুড়ি নিয়ে চর্চা ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। রাতারাতি 'ভিআইপি' বনে যান বিক্রম।

    সেই বিক্রমকে গত বেশ কয়েক দিন ধরে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এ অভিযোগ তিনিই বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম থানায় জানিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা শুক্রবার বলেন, 'অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। থানায় জেনারেল ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে।' বিক্রমের দোকানে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে জেলা পুলিশ। দোকানের সামনে মোতায়েন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। দোকানে কারা আসছেন, তা নজর রাখতেই এই ব্যবস্থা — জানিয়েছে পুলিশ।

    বিক্রম বলছেন, 'বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। আমি ফোন ধরে কোনও উত্তর না দেওয়ায় বলা হলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেও লিখেছে, তুমি আমাদের টার্গেটে রয়েছ। তোমাকে বোম মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ভিডিয়ো কলও করেছিল। আমার উপরে পুরো পরিবারের দায়িত্ব। সাইকেলে যাতায়াত করি। ভয় লাগছে।'

    ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে ভোটপ্রচারে এসে আচমকাই হাজির হয়েছিলেন বিক্রমের দোকানে। ১০ টাকার নোট বার করে ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি। সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। সমালোচনা করে বিরোধীরাও। ভোট প্রচারে নিয়মিত ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ উঠতে শুরু করে। এদিকে বিক্রমের বিক্রিও বেড়ে যায় হু হু করে। বহু মানুষ তাঁর দোকানের সামনে এসে ছবি তুলতে এবং রিলস বানাতে শুরু করেন। তবে, ভোট মিটে যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছিল বিক্রমের দোকান। হঠাৎ–ই গত রবিবার থেকে বিক্রমের মোবাইলে প্রাণনাশের হুমকি আসতে শুরু করে। কখনও মেসেজে, কখনও আবার হোয়াটসঅ্যাপ কলে। তিনি নিজে বুঝতে পারছেন না কেন আচমকা তাঁকে টার্গেট করা হলো? ইতিমধ্যেই থানার আইসি এবং পুলিশকর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন।

    আদতে বিহারের গয়ার বাসিন্দা বিক্রম দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সপরিবার ঝাড়গ্রাম শহরের স্টেশনপাড়ায় বাড়ি করে রয়েছেন। পরিবারে মা-বাবা, স্ত্রী ও একটি ছেলে রয়েছে। বাবা–মা দোকানে এসে বিক্রমকে সহযোগিতা করেন। ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলছেন, 'আতঙ্কের কিছু নেই। ওঁর পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।' বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডুর কথায়, 'তৃণমূল কিছু রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিকে মাথায় তুলে রেখেছিল। যার জেরে আমাদের জঙ্গলমহলের দোকানদার বা ব্যবসায়ীকে পাকিস্তানি বা বাংলাদেশিরা হুমকি দিচ্ছে।'

  • Link to this news (এই সময়)