• ‘১৫ বছরের জঞ্জাল...!’ জিয়াগঞ্জ হাসপাতালের ‘রেফার রোগ’ ঠেকাতে কড়া 'ডোজ', সারপ্রাইজ ভিজিটে চমক বিজেপি বিধায়কের
    News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
  • : জিয়াগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। যত্রতত্র আবর্জনার স্তুপ এবং প্রায় পুরো হাসপাতাল চত্বর ঘিরে রয়েছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছের জঙ্গলে। পাশাপাশি পানীয় জল ও শৌচাগারের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এলাকার মানুষকে শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মেলেনি ন্যূনতম চিকিৎসাটুকুও। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত এই হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এমনই একগুচ্ছ ক্ষোভ উগরে দিলেন এলাকার বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ। গ্রামীণ হাসপাতাল পরিদর্শন বিধায়কের,আস্থা উন্নয়ন হবে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর।

    এদিন হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখার পর বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, “এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী ওষুধ নেই, রোগীদের থাকার মতো পর্যাপ্ত বেড বা শয্যাও নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানকার মানুষ এই সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েই রাজ্যে সরকার পরিবর্তন করেছিলেন এবং আমাকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এতদিন আমরা বিরোধী দলে থাকায় আমাদের কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। অথচ এখানকার রোগী কল্যাণ সমিতির যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি একজন সাংসদ (এমপি)। তিনি কোনওদিন এই হাসপাতালে এসে খোঁজ নেননি। তিনি শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতেন আর বিজেপিকে গালাগালি করতেন। তাঁর উদাসীনতার কারণেই আজ হাসপাতালের এই বেহাল দশা।”

    বিগত রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সরকারের খাতা-কলমে উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও ‘স্বাস্থ্য সাথী’র ঢোল পেটানো হচ্ছে। অথচ খোদ মুখ্যমন্ত্রী, যিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ছিলেন, তাঁর অপশাসনের কারণে গোটা রাজ্য জুড়েই স্বাস্থ্যব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়েছে। রোগীরা হাসপাতালে এলেই শুধু অন্য জায়গায় রেফার করে দেওয়া হয়েছিল।” তবে এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে গৌরীশংকর ঘোষ জানান, আগামী ২৮ তারিখ রোগী কল্যাণ সমিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে হাসপাতালের পরিকাঠামো সাজানো যায়, যাতে মানুষ সমস্ত ওষুধ ও সরকারি পরিষেবা ঠিকঠাক পায় এবং ‘রেফার রোগ’ বন্ধ হয়।

    তিনি স্পষ্ট জানান, “বিগত ১৫ বছরের এই জঞ্জাল ও বেহাল দশা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিধায়ক তহবিল (এমএলএ ফান্ড) থেকে টাকা দিয়ে হাসপাতাল চত্বর সম্পূর্ণ জঞ্জালমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, এই হাসপাতালের সমস্ত অভাব-অভিযোগ ও প্রয়োজনীয়তার কথা আগামী দিনে আমি নিজে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরব, যাতে সাধারণ মানুষ সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিষেবা পান।
  • Link to this news (News18 বাংলা)