৬ বছরের অপেক্ষার অবসান! হারানো বাবার সম্মান ফিরল ২০২৬-এ, রায়গঞ্জের শহীদ পরিবারকে চাকরির আশ্বাস নয়া সরকারের
News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
: প্রাণ দিয়ে লড়াই পেল এবার সম্মানের স্বীকৃতি! শহীদের পরিবারের পাশে সরকার। রাজগঞ্জে খুশির হাওয়া, চাকরির আশ্বাসে বদলাচ্ছে স্বপ্ন! বহুদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির খবর। তিস্তা পাড়ের রাজগঞ্জে শহীদ বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের পরিবারে এখন যেন নতুন করে আলো ফুটেছে।
উলেন রায় মারা গিয়েছেন ২০২০ সালে। নিষ্ঠাবান বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত এলাকায়। রাজনৈতিক হিংসার কোপে পড়ে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় শরীর। সেই থেকে অথৈ জলে পড়ে যায় স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ের পরিবার। চোখের জল আর ধৈর্য এই ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। আর্থিক অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়েছে দুই ছেলের। বোন কোনওমতে চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা। একা মায়ের উপর গোটা সংসারের দায়িত্ব। বাবা শারিরীক ভাবে না থাকলেও তাঁর মূর্তি পুজো হয় আজও। মানুষ আজও তাকে শহীদ হিসেবে স্মরণ করে। ২০২৬! সময় বদলেছে। রাজ্যের পালা বদল হয়ে এসেছে বিজেপি সরকার। নতুন মুখ্যমন্ত্রী সদ্যই ঘোষণা করেছেন পরিবারদের মিলবে সরকারি চাকরি। দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক অনটন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানো দিনগুলির পর তাই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চাকরির আশ্বাস মিলতেই খুশির হাওয়া বইছে পরিবারে।
ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরে তাকানো যাক গত ৭ ডিসেম্বরের সেই উত্তাল দিনে। শিলিগুড়িতে বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানে পুলিশ ও কর্মীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শহর। সেই দিনই শটগান বা প্যালেট গানের গুলিতে প্রাণ হারান রাজগঞ্জের বাসিন্দা উলেন রায়। তিনি বিজেপির কর্মী হিসেবেই পরিচিত স্থানীয় এলাকায়। তারপর থেকে পরিবারটি কার্যত ভেঙে পড়েছিল অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা। তবে এবার ফিরেছে বিজেপি সরকার। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। আর এতেই যেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে পরিবার।
উলেন রায়ের স্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে জানান, “এই চাকরিটা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটছিল। এখন একটা ভরসা পাচ্ছি। রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।” স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা এলাকার মানুষের কাছেই ইতিবাচক বার্তা বহন করছে, সংকটের সময় পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে। মানবিক এই পদক্ষেপ এখন রাজগঞ্জের চর্চার কেন্দ্রে। এই প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা পরিবার।