• জীবন বাজি রেখেও মেলেনি স্থায়িত্ব! ২০২৬-এর পালাবদলে মিটবে দাবি-দাওয়া? যা করছেন রাজ্যের আপদা মিত্ররা
    News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
  • : সরকারি নির্দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প কিংবা করোনা মহামারীর মতো বিপদকালীন পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করেও আজও স্থায়ী কাজের নিশ্চয়তা মেলেনি। দীর্ঘদিনের সেই ক্ষোভ ও বঞ্চনার মধ্যেই এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স আপদা মিত্র ফাইটার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

    সংগঠনের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যজুড়ে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও দুর্যোগ মোকাবিলার কাজে যুক্ত থাকলেও ২০১৯ সালের পর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের নির্দেশে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে নদিয়া জেলায় সংগঠনের প্রায় ৪৫০ সদস্য এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি সদস্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন। কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৭৩০০ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের কাজে লাগানো হয়।

    সংগঠনের সদস্যদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির সময় নিজেদের ও পরিবারের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অধিকাংশ সদস্যই নিয়মিত কাজ থেকে বঞ্চিত হন। মাসে দু-একদিন কাজ মিললেও স্থায়ী বা নিয়মিত কর্মসংস্থানের কোনও নিশ্চয়তা নেই। অথচ এই ধরনের কাজে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয় বলে অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত হওয়াও সম্ভব হয় না। এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে বহুবার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে আবেদন জানানো হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।

    নবান্ন অভিযান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বৈঠক, সরকারি আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান সবই হয়েছে। কিন্তু তাতে কার্যত কোনও সুরাহা মেলেনি। বরং কোথাও কোথাও অপমান ও ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ সদস্যদের। তবে বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার এবং রাজ্যের বহু এলাকায় বিজেপি বিধায়কদের জয়লাভে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আপদা মিত্ররা। সংগঠনের দাবি, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাদের সমস্যার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে শুনেছিলেন এবং আশ্বাসও দিয়েছিলেন।

    সেই আশাতেই এদিন শান্তিপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক স্বপন দাসকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হন নদীয়া জেলা কমিটির প্রতিনিধিরা। সংগঠনের সদস্যদের আশা, এবার হয়তো দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং তাদের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি ও স্থায়িত্ব দেওয়া হবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)