খালাসীর হাতে স্টিয়ারিং! নদিয়ার করিমপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক সবজি ব্যবসায়ী। মৃতের নাম সুনীল মণ্ডল, বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। বাড়ি হোগলবেরিয়া থানার বালিয়া শিশা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে করিমপুর এক নম্বর ব্লকের নাটনা মোড় এলাকায় বাস ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় সুনীল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির। ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল আনুমানিক পাঁচটা কুড়ি মিনিট নাগাদ ডোমকল থেকে করিমপুরগামী ‘বাবুয়া’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, বাসটিতে চালকের পরিবর্তে খালাসী স্টিয়ারিং ধরেছিল। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মৃত সুনীল মণ্ডল করিমপুর কিষান মান্ডি থেকে সবজি বিক্রি করে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে করিমপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়। পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, যাত্রীবাহী গাড়িতে অদক্ষ ব্যক্তির হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়ার ফলেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সড়কগুলিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা। তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত চালকের বদলে অদক্ষ খালাসী বাস চালাচ্ছেন। লাইসেন্সবিহীন ও অনভিজ্ঞ এই খালাসীরা গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে, যার মাশুল দিচ্ছেন নিরীহ যাত্রীরা। পরিবহন মালিকদের একাংশ খরচ বাঁচাতে এই বেআইনি প্রবণতায় মদত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর আইন প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকি ছাড়া এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।