তিনবিঘা সীমান্তে শেষ হচ্ছে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা, ডেডলাইন মাথায় রেখে তোড়জোড়
News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
রাজ্যের পালাবদল হতেই বদলাচ্ছে এই এলাকার জীবনযাপন! খোলা সীমান্তে শেষ হতে চলেছে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তার নতুন অধ্যায় তিনবিঘায়! এতদিনে নিরাপত্তাহীনতাতেই দিন কাটাতে হত সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের। পাশেই পড়শী দেশ, এদিকে কাঁটাতারের বেড়াও নেই। চিন্তার শেষ ছিল না স্থানীয়দের। যখন তখন অবৈধ বেআইনি কাজ কারবারের আশঙ্কা ছিল। চাষাবাদ থেকে শুরু করে নিত্য দিনের কাজ কারবার মনে খানিক ভয় নিয়েই শুরু করতে হত।
তবে এবার তার অবসান হতে চলেছে এই তিন বিঘা করিডর অঞ্চলে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার কাঁটাতারের বেড়া বসতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেড়াবিহীন এলাকাগুলিতে। খুব শীঘ্রই মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা ও সংলগ্ন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। রাজ্যে নতুন সরকার গড়তেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তবর্তী উন্মুক্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানোর নির্দেশিকা জারি হয়। এরই সঙ্গে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার নির্দেশ দেন নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ।
প্রশাসন ও বিএসএফ ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় গতি এনেছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দেবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। কলসিগ্রাম, দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা-সহ একাধিক এলাকায় প্রায় ১০০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩০ একর জমির সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনবিঘা করিডোর সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনিক কর্তাদের পরিদর্শনও সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে বিএসএফ আধিকারিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়দের দাবি, উন্মুক্ত সীমান্তের কারণে বহুদিন ধরেই বেআইনি অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও দুষ্কৃতীদের আনাগোনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন সেই পরিস্থিতির বদল ঘটবে বলেই আশাবাদী তারা। ইতিমধ্যেই কিছু এলাকায় বাঁশের খুঁটি পুঁতে জমির সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই এলাকায় বিএসএফের টহলদারি জোরদার করতে রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনই স্থানীয় কৃষকরাও নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করতে পারবেন। খোলা সীমান্তের দুশ্চিন্তা পেরিয়ে, এখন তিনবিঘা অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষায় দিন গুনছে নিরাপদ আগামীর।