নদী-সমুদ্রে কেন কমছে মাছের যোগান? সামনে এল ৩ প্রধান কারণ, চরম সংকটে উপকূলের মৎস্যজীবীরা
News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
: নদী বা সমুদ্রে জাল ফেলে মাছ উঠলেই মৎস্যজীবী পরিবারের ভাত ফুটে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে মাছের প্রজনন বাড়ানোর জন্য ব্যান পিরিয়ড চলছে। এক কথায় এই সময় নদী বা সমুদ্রে জাল ফেলে মাছ ধরা যাবে না। আর তাতে এই সমস্যায় পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী অঞ্চলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী পরিবারের মানুষজন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম আকাঙ্ক্ষা নদী ও সমুদ্র কেন্দ্রিক। কিন্তু দিনের পর দিন নদী ও সমুদ্রে মাছের যোগান কম। তার উপর এই দুই মাসের ব্যান পিরিয়ড মৎস্যজীবীদের অন্ন সংস্থানে আরও কোণঠাসা করে দিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সামুদ্রিক মাছ উৎপাদনের অন্যতম ক্ষেত্র। একদিকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত অন্যদিকে এই জেলার মধ্য দিয়ে শিরা উপশিরার মতো বয়ে গেছে একাধিক খাল বিল নদ-নদী। ফলে এই জেলার বহু মানুষ নদী ও সমুদ্রে মাছ শিকার করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু দিনের পর দিন নদী ও সমুদ্রে মাছের যোগান নেই। ফলে পেটে ভাত নেই মৎস্যজীবীদের। প্রতিবছর মাছ শিকারের মরশুমে দেখা যায়, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের যোগান কমছে। ফলে মরশুমে এখন জাল ফেলে সেই রোজকার আর নেই। তার উপর রয়েছে ব্যান পিরিয়ড এই ৬১ দিন নদী বা সমুদ্রে জাল ফেলা যাবে না। ফলে বছরের পর বছর দুশ্চিন্তা বাড়ছে জেলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের।
নদী বা সমুদ্রের সামুদ্রিক মাছের যোগান কমার বিষয়ে দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শাখার সম্পাদক দেবাশীষ শ্যামল জানিয়েছেন, ‘মূলত তিনটি কারণে দিন দিন মাছের যোগান কম হচ্ছে। এক অনিয়ন্ত্রিত ফিশিং বা ট্রলার ফিশিং। দুই নদী সমুদ্রে দূষণের পরিমাণ বাড়ছে। দ্বিতীয়ত উপকূলবর্তী অঞ্চলে একাধিক প্রকল্পের কারণে জীববৈচিত্র হারাচ্ছে নদ-নদী ও সমুদ্র। আর তাতেই সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন অনেকটাই কম হয়েছে। শেষ কয়েক বছরে ৬০ শতাংশ মাছ উৎপাদন কমে গিয়েছে। সমস্যায় পড়েছে প্রান্তিক মৎস্যজীবীরা। আবার ব্যাঙ্ক, সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ভাতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে আরও সমস্যা নেমে এসেছে ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী পরিবারে।’
এ বিষয়ে মৎস্যজীবী ফোরামের সূত্রে জানা যায় শেষ কয়েক বছরে মৎস্যজীবী জীবিকা হারিয়েছে এক লক্ষের বেশি ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী। ব্যান পিরিয়ড সমুদ্র সাথী প্রকল্পের ভাতার টাকা পাওয়া গেলে অন্নসংস্থানে কিছুটা উপায় হত বলে মনে করছেন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীরা। দ্রুত মৎস্যজীবীদের এই ভাতা চালু হোক তা নিয়ে মৎস্যজীবীরা দাবি ইতিমধ্যেই মৎস্য দফতরকে জানান হয়েছে। ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের এই দাবিতে কতটা সাড়া দিবে মৎস্য দফতর, সেদিকে তাকিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় দেড় লক্ষরও বেশি প্রান্তিক মৎস্যজীবী।