ভোপালের মডেল ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নতুন সূত্র তদন্তকারীদের হাতে এল। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মিলেছে। তাতে ত্বিষাকে একটি স্যালোঁয় যেতে দেখা গিয়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, গত ১২ মে দুপুর ৩টে ১২ মিনিটে ওই স্যালোঁয় যান তিনি। বেরোন প্রায় ঘণ্টা তিনেক পরে। তার কয়েক ঘণ্টা পরে শ্বশুরবাড়িতে মেলে ত্বিষার ঝুলন্ত দেহ।
স্যালোঁর মালিক কিরণ পারিহর সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার পরের দিন ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিং তাঁকে ফোন করেছিলেন। ফোনে বার বার ত্বিষার গতিবিধির খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। সিসিটিভি ফুটেজও চেয়েছিলেন। খুঁটিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, ত্বিষা কখন স্যালোঁয় গিয়েছিলেন, কী ভাবে স্যালোঁর টাকা মিটিয়েছিলেন।
কিরণ দাবি করেছেন, ত্বিষা তাঁর স্যালোঁর দীর্ঘদিনের খদ্দের। অতীতে চার-পাঁচ বার ওই স্যালোঁয় গিয়েছিলেন তিনি। যদিও মাঝে একটা বড় বিরতি ছিল। প্রায় ৯ মাস পরে গত ১২ মে দুপুরে স্যালোঁয় যান ত্বিষা। তিনি স্যালোঁর প্যাকেজ কিনেছিলেন বলে প্রত্যেক বার তাঁকে টাকা মেটাতে হতো না বলেও জানিয়েছেন কিরণ। তিনি জানান, ঘটনার পরের দিন গিরিবালা একবার সকালে, আর এক বার দুপুরে ফোন করেছিলেন। সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন গিরিবালা। তার কিছু ক্ষণ পর আইনজীবীর বেশে কয়েক জন স্যালোঁয় গিয়েছিলেন। তাঁরা সিসিটিভি-র ফুটেজ চান কিরণের কাছে। যদিও তাঁদের পরিচয় কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে খবর পুলিশ সূত্রে।
প্রসঙ্গত, দশ দিন আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে গিরিবালা দাবি করেছিলেন, মাদকাসক্ত ত্বিষা আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও ময়নাতদন্তে দেখা যায়, ৩৩ বছরের ত্বিষার দেহে মাদকের কোনও চিহ্নই নেই। ত্বিষার পরিবার বার বার দাবি করেছে, পণের জন্য নানা ভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল তাদের মেয়েকে। স্বামী ও শাশুড়ি প্রভাবশালী হওয়ায় নানা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও হতো বলে অভিযোগ তাদের।
ত্বিষার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন স্বামী সমর্থ সিং। শুক্রবার গ্রেফতার হন তিনি। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার পরে আত্মসমর্পণ করতে জবলপুরের একটি আদালতে যান সমর্থ। আদালত তাঁকে ভোপালের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলে। পরে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ত্বিষার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবারই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।