ঝাড়গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড়। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে হাতির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। কিন্তু বার বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে নানা মহলে। তার পরেই থেকেই বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বন দপ্তর। শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জঙ্গলে শুরু হয়েছে এই অভিযান।
সূত্রের খবর, গোরুমারা ও লাটাগুড়ি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি রিসর্ট এবং হোম-স্টে রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গোরুমারা সাউথ রেঞ্জের রিসর্টগুলিতে বন কর্মীরা আচমকা হানা দেন। রিসর্টগুলিতে নিয়ম মেনে বিদ্যুৎ সংযোগ করা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয় এ দিন।
গোরুমারা সাউথ রেঞ্জের বিছাভাঙা বিটের অফিসার সৌরভ সেনের নেতৃত্বে এ দিন গোরুমারায় অভিযান চালানো হয়। এ দিন বন কর্মীরা খতিয়ে দেখেন, হাতির যাতায়াতের পথে কোনও বিদ্যুতের তার বিছানো রয়েছে কি না। বন দপ্তরের এই নজরদারি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে সূত্রের খবর।
গোরুমারার বন্যপ্রাণী বিভাগের ADFO রাজীব দে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের একাধিক রেঞ্জকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে। কোনও ভাবে যদি বন্য প্রাণীর যাতায়াতের পথে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের প্রমাণ মেলে, তা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের এক বেসরকারি গেস্ট হাউসের বাগান থেকে আম খেতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল পূর্ণবয়স্ক এক হাতির। হাতিটির শুঁড়ে একাধিক পোড়া দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। ঘটনায় ওই রিসর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার তিমির মাহাতোকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। তবে, ওই রিসর্টের মালিক-সহ বাকি চার জন পলাতক।