• আসামি ধরতে গিয়ে ‘জনরোষ’-এর মুখে পুলিশ
    আজকাল | ২৩ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসামি ধরতে গিয়ে উল্টে বিক্ষুদ্ধ জনতার হাতে মার খেতে হল পুলিশকে। শুক্রবার রাতে মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার কুচিয়ামোড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।

    আহত হয়েছেন দুই পুলিশকর্মীও। পাল্টা অভিযানে রাতেই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে ডোমকল থানার পুলিশ। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অস্ত্র আইনে অভিযুক্ত আজমত শেখ নামে এক দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ওয়ারেন্ট’ নিয়ে কুচিয়ামোড়ায় হানা দেয় ডোমকল থানার পুলিশের একটি দল।

    স্থানীয় একটি চায়ের দোকান থেকে আজমতকে আটক করতে গেলে পুলিশকে ঘিরে ধরে উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ, পুলিশকর্মীদের বেধড়ক মারধর করে আসামিকে একপ্রকার ছিনিয়ে নেয় তারা।

    জখম হন দুই পুলিশ কর্মী। আহতদের নাম গোলাম কুদ্দুস এবং অসীম বিশ্বাস। তাঁরা কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের এএসআই এবং কনস্টেবল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডোমকল থানার বিশাল বাহিনী।

    পুলিশের কাজে বাধা, সরকারি কর্মীকে মারধর ও আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাতেই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিন মহিলা সহ মত ১০ জনকে আটক করা হয়।

    অন্যদিকে স্থানীয়দের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশ ‘সিভিল ড্রেসে’ আসায় কেউ বুঝতে পারেনি। ফলে সাধারণ লোক ভেবে বাধা দেওয়া হয়। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের মালিক আমিনা বিবি বলেন, ‘আমার স্বামীর দোকানে প্রতিদিনই অনেকে এসে চা খান। শুক্রবার সন্ধ্যায়ও দোকানে অনেকে বসে চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওদের গায়ে পুলিশের পোশাকও ছিল না। আমরা বুঝতেই পারিনি। একজন গ্রামবাসীকে জোর করে তুলছে দেখে লোকজন বাধা দেয়। তবে আমি বা আমার স্বামী কোনওভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। তবু পুলিশ এসে আমাদের বাড়িঘর, দোকান ভাঙচুর করেছে।’

    কমলা বিবি নামে আরেক গ্রামবাসীর দাবি, ‘ঘটনাস্থল থেকে আমার বাড়ি অনেক দূরে। রাতে বাড়ির মধ্যেই আমি, আমার স্বামী এবং এক ছেলে শুয়েছিলাম। আমার আর এক ছেলে ছাদে বালিশ নিয়ে শুয়ে মোবাইল দেখছিল। হঠাৎ পুলিশ এসে বাড়ি তল্লাশি করে আমার ছেলে নিজাম আলিকে তুলে নিয়ে যায়। আমার ছেলে খুবই অসুস্থ। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। ও এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নয়। আমরা বারবার পুলিশকে একথা বললেও তারা আমাদের কোনও কথা শোনেনি।’

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজমত শেখকে ধরতে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি বাহিনী।

    প্রসঙ্গত, পালাবদলের পর রাজ্যকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিছুদিন আগেই পার্ক সার্কাসে রাস্তায় নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘পুলিশের গায়ে আঁচড় লাগলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।’
  • Link to this news (আজকাল)