আজকাল ওয়েবডেস্ক: গতকাল থেকে কলকাতার একাধিক জায়গায় চলছিল ইডি তল্লাশি। শনিবার সেই সূত্রেই মার্কুইজ স্ট্রিটের ইডি তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার আড়াই কেজি সোনা। মহম্মদ আলী ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে ওই সোনা। এ ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে একাধিক তথ্য প্রমাণ এবং নগদ অর্থও।
শুক্রবার সকাল থেকে সোনা পাপ্পু জমি জালিয়াতি মামলায় তল্লাশি অভিযান চালায়। ৭-৮টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গোটা রাত তল্লাশি অভিযান চলার পর শনিবার মহম্মদ আলী ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে আড়াই কেজি সোনা। যার বাজারমূল্য ৪ কোটি টাকা। তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রচুর ডিজিটাল প্রমাণ-সহ দুবাইয়ের চারটি সম্পত্তির নথি পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা নগদ অর্থও। জানা গিয়েছে, এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র মিলেছে অভিযুক্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের।
সকাল ৬ টা নাগাদ ইডির তদন্তকারী আধিকারিকেরা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযানে নামে। পার্কস্ট্রিটের একটি হোটেল, ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া বকুলবাগানের অতুল কাটারিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে শুরু হয় তল্লাশি। এছাড়াও বালিগঞ্জ-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
জমি জালিয়াতি মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ ১২ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা অফিসারের নাম আগেই পেয়েছিল ইডি। ইতিমধ্যেই তাঁদের তলব করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই সমস্ত অফিসারদেরকে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস পোস্টিং করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল ইডি। এই সমস্ত অফিসারদের কাজে লাগিয়ে একাধিক জমি কম দামে ব্যবসায়ী জয় কমদারকে পাইয়ে দেওয়া হত বলে জানা গিয়েছে।
জমি জালিয়াতি মামলায় ইডি'র হাতে ১৮ মে গ্রেপ্তার সোনা পাপ্পু। সোমবার সকালে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। প্রায় ১০ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার রাতেই ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা না করা।
সোনা পাপ্পু নামক এক ব্যক্তি প্রথমে সমস্ত জমির দলিলের তথ্য পাঠাত ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা ওইসব অফিসারদের। সেই সমস্ত জমির মালিকদের থানায় ডেকে পাঠাতেন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকরা। এরপর সেইসব জমির কাগজে সমস্যা রয়েছে বলে ভয় দেখান হত জমি মালিকদের। পরে তাঁদের উপর চাপ দিয়ে সেই জমি অল্প মূল্যে সোনা পাপ্পুর মাধ্যমেই ব্যবসায়ী জয় কামদারকে তুলে দেওয়া হত। তদন্ত নেমেই এমনটাই জানতে পেরেছে ইডি।
সেই সোনা পাপ্পু প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ফেরার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি ছাড়াও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। গত সোমবার সকালে হঠাৎই তিনি ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন। এর আগে তাঁকে একাধিকবার তলব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু নাগাল পাওয়া যায়নি কোনওদিনই। এরপর এপ্রিল মাসের গোড়া থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। সেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু সোমবার সকালে সরাসরি ইডি দপ্তরে এসে হাজির হন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি বাড়িতেই ছিলেন, তাঁকে দেখা করতে বলা হয়েছিল, তাই তিনি দেখা করতে এসেছেন। সেদিনই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর, গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।