• কোথাও গণইস্তফা, কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও 'পাল্টি', ঠিক কী চলছে পুরসভাগুলিতে?
    আজ তক | ২৩ মে ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের মাশুল এবার পুরসভাতেও গুনছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে,তাতে পুরভোটের আগেই হয় তো বহু পুরবোর্ড ভেঙে যাবে। এমনকী কলকাতা পুরসভা নিয়ে শোনা যাচ্ছে, খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। যদিও এটি তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর। কিন্তু পুরসভাগুলিতে যে তৃণমূলের অবস্থা শোচনীয়, তার একের পর এক প্রমাণ রোজই মিলছে। খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের বৈঠকে আর্জি জানিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করবেন না। তারপরেও পরিস্থিতি ডামাডোল।

    এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন একটি অঘটনও ঘটে গিয়েছে। দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই সঞ্জয় দাস আবার তৃণমূলের দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। ব্যাপক দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কলকাতা পুরসভা সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় ব্যাপক অচলাবস্থা।

    হালিশহরের কাউন্সিলরদের গণইস্তফা

    দুদিন আগেই হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলর একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। তার আগে কাঁচরাপাড়াতেও কাউন্সিলরদের গণইস্তফার ঘটনা ঘটেছে। হালিশহরে তো খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে পুরসভার পরিষেবা ঘিরে তৈরি হয়েছে অশান্তি। 

    ভাটপাড়া পুরসভায় গণইস্তফা

    ভাটপাড়ায় একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। ভাটপাড়ায় ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জনই গণইস্তফা দিয়েছেন। এখানেও চেয়ারপার্সন রেবা সাহা ইস্তফা দিয়েছেন। অতএব ভাটপাড়া পুরসভার পরিষেবা নিয়েও আপাতত বিরাট জটিলতা। এলাকার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের দাবি, সরকারি আধিকারিকরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকবেন। ভাটপাড়া পুরসভার পদত্যাগী উপ পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষের কথায়, 'আমার কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না, কারণ আমি যখন শুনলাম, পরশুদিন আমাদের কাউন্সিলর রিজাইন করে দিচ্ছে, কালকে চেয়ারম্যানও রিজাইন করে দিয়েছে, এবং আমার কাছে কোনও অন্য অলটারনেটিভ ছিল না। তারপরে আমি দেখছি, কোনও পৌর পরিষেবা পাচ্ছে না লোকেরা। কর্মচারীরা মাইনে পাচ্ছে না। দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। দল কোনও সাজেশনও দেয়নি। দুর্ভাগ্য এরকম একটা পরিস্থিতিতে  দলের কোনও সাহায্য পাইনি। কেউই আমাদের কোনও সাজেশন দেয়নি। কেউ গাইড করেনি। কেউই পাশে দাঁড়ায়নি। আমাকে কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একদম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।'

    উত্তর দমদম পুরসভায় মাইনে নেই

    শুক্রবার উত্তর দমদম পুরসভা বেনজির বিক্ষোভ হয়। গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অস্থায়ী কর্মীদের। ঘটনাস্থলে চেয়ারম্যানকে আসতে হবে বলে দাবি করতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যায় পুলিশ। অস্থায়ী কর্মীদের অভিযোগ,মাসের পর মাস তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এক এক সময় এক এক রকম বেতন দেওয়া হচ্ছে।

    কলকাতা কর্পোরেশনে কী চলছে? 

    তথৈবচ অবস্থা কলকাতা পুরসভাতেও। কানাঘুষো খবর, মেয়র পদে নাকি ইস্তফা দিতে চাইছেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা পুরসভায় তো এমন অবস্থা যে, শুক্রবার হাউসের বাইরে হাউস বসাতে হল মেয়র সহ সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। ফিরহাদ হাকিমের কথায়, 'সব নির্বাচিত যত আমাদের প্রতিনিধি আছে, তাঁদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল, আমি হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমন, আজকে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখের। তাই আমার যারা কলিগ,যারা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা সামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।' একই সঙ্গে ফিরহাদের বার্তা, 'রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'

    কী বলছেন রাজ্য সরকার?

    সামনেই বর্ষা আসছে। সব কিছু ঠিক থাকলে জুনের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যেই গোটা বাংলায় বর্ষা ঢুকে যাবে। তার আগে পুরসভাগুলির চূড়ান্ত অচলাবস্থায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে। চলতি বছরেই ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরভোট হওয়ার কথা। কিন্তু বিধানসভায় পালাবদলের পরেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। যেমন আবর্জনাময় হাওড়ার হাল ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। হাওড়া পুরনিগমের ভোট নিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানু‌ষ পেতে পারে না। তাই সব ঠিকঠাক থাকলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিক পৌরবোর্ডের হাতে হাওড়া পুরনিগম এবং বালি তুলে দিতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।'

    পুরসভাগুলির এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক, পুর কমিশনার, রাজ্যের অন্য পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে এ দিন বৈঠক করেন। বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘হাতে আমাদের ১৮ দিন আছে। এ বার যাতে বাংলার মানুষের অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা হবে। আগের বছর সাংঘাতিক বৃষ্টি হয়েছিল। সে রকম যদি এ বার হয়, তা হলে সেটিকে কী করে মোকাবিলা করা হবে, সে গুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।’
  • Link to this news (আজ তক)