• কর্মসংস্থানের জোয়ারে খোঁজ করেও মিলছে না কলের মিস্ত্রি! রোজগার মেলায় দাবি প্রধানমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
  • ভারত আজ উন্নয়নের পথে এত দ্রুত এগোচ্ছে যে গোটা বিশ্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হতে চায়। রোজগার মেলা থেকে দেশের উন্নয়নের খতিয়ান দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, বহু সেক্টরে ভারত সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলি যৌথভাবে (পিপিপি মডেলে) কাজ করছে। তাতে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কর্মসংস্থান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তিনি নিজে শহরাঞ্চলে দ্রুত পিএনজি সংযোগ করার জন্য কলের মিস্ত্রি পর্যন্ত পাননি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, “জাহাজ নির্মাণ থেকে সেমিকন্ডাক্টার হাবে লক্ষ লক্ষ দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থান হবে।” প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি স্টার্ট আপ সংস্থা ইতিমধ্যেই রেজিস্টার্ড, আগামী দিনে এই সংস্থাগুলিই আরও রোজগারের ব্যবস্থা করবে। 

    কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিতে বেশ কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ‘রোজগার মেলা’ করছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার এমনই এক রোজগার মেলায় ৪৭ শহরে ৫১ হাজার যুবক-যুবতীর হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সরকারের বিভিন্ন স্তরে চাকরি পেয়েছেন ওই ৫১ হাজার চাকরিপ্রার্থী। ওই রোজগার মেলা থেকেই মোদি দাবি করেন, আজ বহু সেক্টরে ভারত সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করছে। তাতে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। গ্রাম, ছোট শহর এবং দূরদূরান্তের এলাকা যখন উন্নয়নে শামিল হয়, তখনই প্রকৃত উন্নয়ন হয়। আজ দেশের যে কোনও প্রান্তে ১০০ কিলোমিটার গেলেই দেখবেন কোনও না কোনও সরকারি কাজ হচ্ছে। আপনারা যারা সরকারি চাকরি করবেন তাঁদের কাজই হবে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস বাড়ানো।

    এদিন রোজগার মেলা থেকে খানিকটা রসিকতার সুরেই প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আমি আমার স্বচ্ছতার অভিযানের কথা কখনও মানুষকে ভুলতে দিই না। নিজেও ভুলি না। জল জীবন মিশনে এত নলের মিস্ত্রি (প্লাম্বার) যুক্ত রয়েছেন যে শহরে পিএনজি কানেকশন দেওয়ার জন্য মিস্ত্রি খুঁজে পাচ্ছি না। সবাই জল জীবনে কাজ করছে। এদিকে এনার্জি সংকটের আবহে শহরে দ্রুত গতিতে পিএনজি পরিষেবা দিতে হত, কিন্তু আমি নিজে প্লাম্বার খুঁজে পেলাম না। ভাবুন, আজকাল কাজ করার লোক চেয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।”

    তবে শুধু রোজগার নয়, কৌশলগত দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রী ওই রোজগার মেলা থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভারত আজ গ্লোবাল পাওয়ার হাউস হয়ে উঠেছে।  জাহাজ নির্মাণ থেকে সেমিকন্ডাক্টার হাব, লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। মোদির কথায়, “আজ গোটা বিশ্ব ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হতে চায়। নেদারল্যান্ডসের সেমিকন্ডাক্টার সংস্থা এএসএমএলের সঙ্গে টাটার চুক্তি হয়েছে। শুধু এই চুক্তিই ভারতে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির দরজা খুলে দেবে। সুইডেনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআই চুক্তি, আমিরশাহীর সঙ্গে সুপার কম্পিউটিং চুক্তি এসব চুক্তি নতুন প্রযুক্তির রাস্তা খুলে দিয়েছে।” বস্তুত ভারতের লক্ষ্য যে দ্রুত সেমিকনডাক্টর নির্মাণে এবং এআই প্রযুক্তিতে চিনকে টপকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসাবে উঠে আসা, সেটা প্রধানমন্ত্রীর ওই বার্তাতেই স্পষ্ট।
  • Link to this news (প্রতিদিন)