গো-হত্যায় যোগ থাকার সন্দেহে মুসলিমদের গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ আজমেঢ় শরিফের মৌলবি সৈয়দ সারেয়ার চিস্তির। গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে তাঁর আরও আর্জি, গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদার পাশাপাশি দেশের সর্বত্র গোহত্যা ও ধর্মীয় পরব উপলক্ষে বলিদানের জন্য গরু বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হোক। গোমাংস রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা চান তিনি।
২৮ মে ইদ-উল-আজহা পালিত হচ্ছে সারা দেশে। পশ্চিমবঙ্গে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে জিতে বিজেপি সরকার গড়ার পর প্রকাশ্যে গো হত্যায় বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চিস্তির মতো শীর্ষ ধর্মগুরুর এহেন আবেদন শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, হিন্দুদের কাছে গরুর গভীর ধর্মীয় গুরুত্ব আছে বলে তার যথাযথ সম্মান ও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দিতে বিল আনার আবেদন করেন চিস্তি। বলেন, এমন বিলে কারা সমর্থন, কারাই বা আপত্তি তোলে, তা জানা জরুরি। এ ব্যাপারে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত। মুসলিমরা এমন উদ্যোগ স্বাগত জানাবে বলেও জানান তিনি।
দুধ দেওয়ার ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর গরু, গবাদি পশুদের রাস্তাঘাটে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতার নিন্দা করে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইন চান চিস্তি। বলেন, দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিলে লোকজন বাড়ির গরু রাস্তায় ছেড়ে দেয়। মালিকানাহীন গরু রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, প্লাস্টিক, ময়লা-আবর্জনা খায়। এজাতীয় অবহেলার বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি চালু করতে হবে। কেন্দ্রে এক দশকের উপর ক্ষমতায় থাকলেও কেন এতদিনে সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে কঠোর আইন কার্যকর করেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিজেপির সমালোচনা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গোরক্ষার নামে একাধিক স্বঘোষিত সংগঠন বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তান্ডবের অভিযোগে জাতীয় রাজনীতি গত এক দশকে সরগরম হয়েছে। ২০১৪য় কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি-এনডিএ সরকার গঠনের পর থেকে এ ধরনের নানা গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বেড়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ফ্রিজে গোমাংস রাখার অভিযোগে দাদরিতে মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা জোর আলোড়ন ফেলেছিল। পরবর্তী কালে একাধিক রাজ্যে গরু নিয়ে যাওয়ার ট্রাক থামিয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে স্বঘোষিত গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযোগ উঠেছে, হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগ, সংবেদনশীলতাকে আঘাতের। এহেন প্রেক্ষাপটেই আজমেঢ় দরগা প্রধানের অভিমত, তাহলে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে গোহত্যা বন্ধ করলে যদি সামাজিক সম্প্রীতি ফেরে, তাহলে মুসলিম সমাজও তাকে স্বাগত জানাবে।