দেবরাজ-অদিতির ‘দুর্নীতি’ মামলায় সওয়াল, নাম না করে বিকাশকে খোঁচা কল্যাণের
প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে আগাম জামিন তো মিললই না উপরন্তু হাই কোর্টে নিজেদের মামলায় সিপিএম নেতা-আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যকে দাঁড় করিয়ে নতুন বিতর্কে জড়ালেন অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী। সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদকে মামলায় সওয়াল করতে নামানোয় দেবরাজের উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরাও। এই ইস্যুতে সোশাল মিডিয়া পোস্টে নাম না করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিঁধলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোশাল মিডিয়া পোস্টে কল্যাণ লেখেন, “একজন অভিজ্ঞ বর্ষীয়ান আইনজীবী, যিনি নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যোদ্ধা বলে দাবি করেন। তিনি একজন প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর হয়ে আদালতে লড়াই করছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যখন দেখা যায় ওই আইনজীবী আদালতে দাঁড়িয়ে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সওয়াল করেন। অন্ততপক্ষে, এই ধরনের স্ববিরোধিতার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর দুর্নীতির তদন্তের দাবি থেকে বিরত থাকা উচিত।”
যদিও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তাঁর কাছে মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচিতি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সে কারণেই দেবরাজ-অদিতির মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছেন। সোশাল মিডিয়া পোস্টে বিখ্যাত মার্কিন আইনজীবীর কথা উল্লেখ করে সপক্ষে সওয়ালও করেন। এই প্রসঙ্গে কল্যাণের খোঁচা, “পেশাগত দায়িত্বকে সবসময় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় না, যখন একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্য পক্ষকে আড়াল করে শুধু এক পক্ষকেই বেছে বেছে নিশানা করা হয়। এই ঘটনাপ্রবাহ স্বাভাবিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলে ধরছে – বিজেপি এবং সিপিআইএমের মধ্যে কি কোনো ধরনের সমঝোতা রয়েছে?”
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সিপিএমের অন্দরেও জোর চাপানউতোর। দলীয় কর্মীদের প্রশ্ন, এতদিন ধরে কংগ্রেসের কপিল সিবালের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সওয়াল করা নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম, কিন্তু এবার অদিতি-দেবরাজ মামলায় আমাদের ‘লিডার-প্রার্থী’ লড়াইয়ে নেমেছেন, মানুষকে মুখ দেখাব কী করে? পেশার দোহাই দিয়ে বিকাশ ভট্টাচার্যদের এমন ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আলিমুদ্দিনের একাংশও।