৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ স্বাস্থ্যদপ্তরে, দুর্নীতি রোধে আসছে নতুন আইনও, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
আগামী ৩ মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে। মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল ও প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে পাশে নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ পলিসিতে স্বচ্ছতার এনে দ্রুততার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শেষ করা হবে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে মাত্র ৫৩ শতাংশ নিয়োগ হয়েছে। যা জাতীয় গড়ের অনেক নিচে।” জাতীয় গড় ৯৮ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগ নিয়োগ দুর্নীতি। তার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যক্ষেত্রও। দীর্ঘদিন নিয়োগ আটকে থাকার অভিযোগও তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ দিন নবান্নে আটকে থাকা সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পোস্টের তুলনায় নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৫৩ শতাংশ। আগামি ৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনে নিয়োগ করা হবে।” ন্যাশনাল কোয়ালিটি এসুরেন্স টেন্ডারেরও বাংলা অনেকটা পিছিয়ে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫৬.৬৮ শতাংশ কাজ হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে তা ১০০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এটি একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়।”
উল্লেখ্য, এ দিন শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত রোজগার মেলায় অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখানে আগের সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। বলেন, “পূর্বের সরকারের আমলে লাগাতার নিয়োগ দুর্নীতিতে গোটা দেশের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বদনাম হয়েছে।” বিজেপি সরকার নতুন নিয়োগ নীতি বলবৎ করবে বলেও জানান তিনি। সম্ভবত আগামী বাজেট অধিবেশনেই বিধানসভায় এই প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে।
এই অনুষ্ঠানেই পরীক্ষার্থীদের কার্বন কপি দেওয়ার বিষয়ে সওয়াল করে তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করি কীভাবে পরীক্ষা হয়। ওএমআর পদ্ধতিতে হয়। কার্বন কপি রেখে দেওয়া হয়। এটা খুব খারাপ। নেপোটিজম, করাপশন, এই শব্দগুলো এখান থেকেই আসে। নতুন নিয়োগ নীতি চালু করা হবে। উদ্দেশ্যে থাকবে ওএমআর কার্বন কপি দেওয়ার। লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক স্কোর, মৌখিকে অতিরিক্ত নম্বর রাখা আছে। তা কমানো উচিত। আমরা চাই স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা।”