• ‘যাদের জন্ম কংগ্রেসে…’, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘ঘর ওয়াপসি’র আহ্বান হাত শিবিরের, বার্তা কি মমতাকেও?
    প্রতিদিন | ২৩ মে ২০২৬
  • বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে মুষল পর্ব শুরু হয়েছে। রোজ কোনও না কোনও নেতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ দাগছেন। একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে শীর্ষস্তর পর্যন্ত সর্বত্রই ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। এই পরিস্থিতিতে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টায় কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে একপ্রকার ঢাকঢোল পিটিয়ে তৃণমূলের সেই সব নেতাদের দলে আহ্বান জানানো হল, যারা কোনও এক সময় কংগ্রেসে ছিলেন। শুভঙ্কর সরকার, গুলাম আহমেদ মীররা ঘোষণা করলেন, “যারা কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস করে, যাঁদের জন্ম কংগ্রেস, রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা কংগ্রেসে, তাঁদের সকলের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা। আপনাদের খোলা মনে স্বাগত জানানো হবে।”

    বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাহুল গান্ধী থেকে সোনিয়া গান্ধী-কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা মমতার সঙ্গে কথা বলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে একজোটে লড়াইয়ের বার্তা দেন। ভোটের ফলপ্রকাশের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এসে মমতাও ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন। তিনি বিজেপিকে হারাতে ‘ফ্রি বার্ডে’র মতো পরিশ্রম করার বার্তা দেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, ভবিষ্যতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের মিশে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা রয়েছে কি? তাতে মমতা সংক্ষেপে উত্তর দেন, ‘এটা ভবিষ্যতের কৌশলগত ব্যাপার। এখানে উত্তর দেব না।” অর্থাৎ জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তৃণমূল নেত্রী।

    তারপরই আজ প্রদেশ নেতৃত্ব যেভাবে পুরনো কংগ্রেসিদের ‘খোলা মনে’ দলে যোগ দেওয়ার আর্জি জানাল, সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর এদিন বললেন, “সব পুরনো কংগ্রেসিদের দলে ফিরে আসতে আহ্বান করছি। যাঁদের জন্ম কংগ্রেসে, কংগ্রেসে যাঁদের চোখ ফুটেছে, যাঁদের কংগ্রেস লালন-পালন করেছে, কিন্তু কোনও না কোনও পরিস্থিতিতে, চাপে, ক্ষোভে বা ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতার জন্য অন্য দলে গিয়েছেন, তাঁরা দলে ফিরে আসুন। যারা কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাস করেন, তাঁরা ফিরে এলে আমরা খোলা মনে স্বাগত জানাব।” মীরের কথায়, “এটাই সুবর্ণ সুযোগ। কংগ্রেস আপনাদের সুযোগ দিচ্ছে, লড়াই থেকে কংগ্রেস পিছু হটবে না। দরজা সবার জন্য খোলা। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইটা এখন স্বাধীনতা আন্দোলনের মতো।” নিঃসন্দেহে ওই বার্তা তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য। এখন এই শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কি মমতাও রয়েছেন? সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

    বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল একপ্রকার দাঁড়হীন নৌকার মতো। একের পর এক পুরসভা-পঞ্চায়েত হাতছাড়া হচ্ছে। দলের কর্মসূচিতে সেভাবে সাড়া মিলছে না। বিধানসভায় বিধায়করা গরহাজির থাকছেন। এমনকী নেত্রীর ডাকেও সব সাংসদ-বিধায়কের উপস্থিতি চোখে পড়ছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রের দাবি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের একটা বড় অংশ কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নিচুতলাতেও বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে কংগ্রেসের হাত ধরতে চান। শনিবার প্রদেশ নেতৃত্ব জানিয়েছে, একটি কমিটি বানানো হচ্ছে। সেই কমিটিই ঠিক করবে কাদের দলে নেওয়া হবে। মোটামুটিভাবে কংগ্রেসি ভাবধারার সবার জন্য রাস্তা খোলা। তবে যারা এতদিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন, যারা দুর্নীতি করেছেন, যাঁদের ভাবমূর্তি ভালো নয়, তাঁদের স্ক্রুটিনির অধীনে আনা হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)