হাতির দল দেখলেই মোবাইল হাতে দৌড়ঝাঁপ, রিলস তৈরির নেশায় সতর্কতার জলাঞ্জলি ডাকছে বিপদ
News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
মাঝে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমলেও ফের সেই সংঘাত যেন বেড়ে চলেছে। নেপথ্যে কারণ কি শুধু হাতি দেখার জন্য অতি উৎসাহ, নাকি রিলের নেশা? হাতির ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করলেই নাকি বাড়ছে ভিউ! আর এই সোশ্যাল মিডিয়ার নেশায় হাতির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে কম বয়সী যুবকরা। এতেই ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনও হাতিকে এক জঙ্গল থেকে অন্য জঙ্গলে পার করানোর সময়, কিংবা কোনও জঙ্গলের দলমার দলকে দেখে অতি উৎসাহে তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে যুবকরা। চলতি সপ্তাহে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দু’জন যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে জঙ্গলমহলে।
বুধবার পূর্ণপানির জঙ্গলে হাতি দেখতে গিয়ে মৃত্যু হয় ১৯ বছর বয়সী এক যুবকের। ঠিক তার পরের দিন বৃহস্পতিবার হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় ৩৪ বছর বয়সী এক যুবকের। বন দফতর সূত্রে খবর, হাতি এবং মানুষের সংঘাত ২০২৪ থেকে বেশ কম ছিল। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম কিংবা বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে মানুষের সচেতনতার কারণে হাতির হানায় প্রাণ যাওয়ার ঘটনা বেশ কমে এসেছিল। তবে সম্প্রতি হাতি দেখতে অতি উৎসাহ এবং মোবাইলে ভিডিও তোলার নেশায়, প্রাণ যাচ্ছে একাধিক জনের। মৃত্যুর লিস্ট ক্রমশই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারংবার লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতির দল। যার ফলে বাড়ছে মানুষ এবং হাতির মধ্যে সংঘাত। প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের গড় শালবনী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। ঠিক তারপরেই বুধবার পূর্ণপানির জঙ্গলে হাতি দেখতে গিয়ে মৃত্যু হয় ১৯ বছর বয়সেই নিতীশ মাহাতোর। শুধু তাই নয়, তার পরের দিন বৃহস্পতিবার গাছের নীচে বসে কিছুটা আরাম উপভোগ করার সময় হাতির হানায় মৃত্যু হয় ৩৪ বছর বয়সী মঙ্গল মুর্মুর। ঘটনা মানিকপাড়া রেঞ্জ এলাকায়। এছাড়াও ২৯ এপ্রিল গোবিন্দপুরের জঙ্গলে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয় ২০ বছর বয়সী লালমোহন মাহাতোর।
বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে হাতি দেখতে প্রবেশ করে ওই তরুণ। বন বিভাগের তরফে বিভিন্নভাবে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। জঙ্গল এলাকায় হাতি থাকলে মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজেও জঙ্গলে যেতে বাধা দেওয়া হয়। তাও হাতি এলে, হাতি ড্রাইভের লাইভ ছবি তোলার নেশায় হাতির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে এই সমস্ত অতি উৎসাহী যুবক। ইদানিং ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। শুধুই হাতির আক্রমণাত্মক মেজাজ নয়, অতি উৎসাহে হাতির স্বাভাবিক বাসস্থানে বাধা সৃষ্টিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।