মন্ত্রী হওয়ার পরেও নিজের ফর্মে দিলীপ ঘোষ! ‘প্রয়োজনে সব উসুল করা হবে,’ কাটমানি-মাফিয়ারাজ নিয়ে হুঁশিয়ারি
News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
খড়্গপুরে আজ একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কাটমানি এবং মাফিয়ারাজ নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ৷ স্থানীয়েদের একাংশের অভিযোগ, খড়্গপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে দিন কাটিয়েছে। মাফিয়া রাজ, কাটমানির অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের হুমকি— এসব নিয়ে বহু অভিযোগ উঠেছে অতীতে। এবার সেই প্রসঙ্গেই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
আজ, শনিবার খড়্গপুরের বালাজি মন্দিরে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘খড়্গপুরে আর কাটমানি, ফোন করে ব্যবসায়ীদের হুমকি কিংবা মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলবে না।’’ তাঁর দাবি, ‘‘অতীতে যাঁরা মানুষের উপার্জন থেকে কাটমানি নিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সব উসুল করা হবে।’’
দিলীপ ঘোষ বলেন, “খড়্গপুরের মানুষ আগে ভয়ে থাকতেন। মাফিয়া তো ছিলই, অনেক ক্ষেত্রে নেতা-পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। যদি এখনও কোথাও অন্যায় হয়, আমাকে জানান। সব বন্ধ করা হবে। যারা কাটমানি খেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো বা চাঁদাবাজি আর বরদাস্ত করা হবে না। এদিন বক্তব্যের শেষে তিনি ধর্ম ও ন্যায়ের পক্ষে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দেন।
অন্যদিকে, বিধায়ক-সাংসদ থাকাকালীন সময়েও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে রাখা হয়নি তাঁকে। সমিতির সভাপতি ছিলেন তৃণমূলের এক নেত্রী। এ বার রাজ্যে পালাবদলের পরে মন্ত্রী হওয়ার পরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের মহকুমা হাসপাতালে গেলেন দিলীপ ঘোষ। মহকুমা হাসপাতালের মানোন্নয়নের পাশাপাশি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
শনিবার খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম মহকুমা হাসপাতালে গেলেন তিনি। শুক্রবারই জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথা হয়েছিল দিলীপের। এ দিন মহকুমা হাসপাতালের সুপার-সহ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয়। সেখানে হাসপাতালের পুরনো জীর্ণ ভবন, সরঞ্জামের অভাব সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি।
দিলীপ বলেন, “আগে পাঁচ লক্ষ টাকা পেত এই হাসপাতাল। এখন এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। ভবন, যন্ত্রপাতি-সহ নানা অভাব-অভিযোগ আছে। ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে। আপাতত কিছু যন্ত্রপাতি কিনে কীভাবে পরিষেবা উন্নত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” এ দিন এই মহকুমা হাসপাতালের নতুন ভবনে প্রসূতি ও শিশু বিভাগ চালু করার সঙ্গে মানোন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানেই মহকুমা হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটিতে কীভাবে উন্নীত করা যায় তার পরিকল্পনা করা হয়।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, “এই হাসপাতালের নতুন ভবনে মা ও শিশুদের বিভাগ চালুর কাজ হচ্ছে। মানুষ যাতে পরিষেবা নিয়ে কোনও অভিযোগ না করে সে বিষয়ে সকলে সতর্ক করা হয়েছে। আইআইটির হাসপাতালে এই হাসপাতালের কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আর আলোচনায় এই হাসপাতালকে সুপারস্পেশালিটি হিসাবে দাঁড় করানোর কথা উঠে এসেছে। প্রায় একশো কোটি খরচ। সেটার একটা পরিকল্পনা আমরা স্বাস্থ্যভবনে দেব।”