• সীমিত পরিষেবায় বাড়ছে ভোগান্তি, কাটোয়া পোস্ট অফিসে আধার পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ
    News18 বাংলা | ২৩ মে ২০২৬
  • : আধার কার্ড সংশোধন করাতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া হেড পোস্ট অফিসে প্রতিদিন ভোররাত থেকেই লম্বা লাইন পড়ছে আধার সংশোধনের জন্য।

    অভিযোগ, রাতভর অপেক্ষা করেও বহু মানুষ পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা মহিলা, প্রবীণ ও শ্রমজীবী মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।স্থানীয় বাসিন্দা অঞ্জনা মাজির অভিযোগ, তিনি রাত দু’টো নাগাদ পোস্ট অফিসে পৌঁছনোর পরও তাঁকে জানানো হয় যে সেদিনের ৩০ জনের তালিকা পূর্ণ হয়ে গিয়েছে।

    তাঁর দাবি, সেই সময় সেখানে ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেন, “আমরা বারবার আসছি, রাত কাটাচ্ছি, তবুও কাজ হচ্ছে না। মহিলাদের পক্ষে প্রতিদিন এভাবে রাত কাটানো খুব সমস্যার।” অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন সীমিত সংখ্যক আবেদন নেওয়া হলেও সেই তালিকা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাটোয়া হেড পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মনোতোষ চ্যাটার্জী জানান, পোস্ট অফিসে প্রতিদিন নিয়ম মেনেই আধার সংশোধনের কাজ করা হয়।

    তাঁর দাবি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও সময়ের কারণে একজন কর্মী দিনে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি আধার সংশোধনের কাজ করতে পারেন। তবে ভালো নেটওয়ার্ক থাকলে কখনও কখনও ৪০ থেকে ৫০টিরও বেশি কাজ করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি যাতে যত বেশি মানুষের কাজ করা যায়। কিন্তু একটি আধার সংশোধনে আঙুলের ছাপ, চোখের স্ক্যানসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সময় লাগে।”

    তালিকা তৈরি ও দালালচক্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে মনোতোষ চ্যাটার্জী স্পষ্টভাবে জানান, পোস্ট অফিস কোনও লিখিত তালিকা তৈরি করে না। তাঁর দাবি, লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরাই নিজেদের মধ্যে নাম লেখেন এবং পোস্ট অফিস শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক আবেদন গ্রহণ করে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন।

    সম্প্রতি পোস্ট অফিসের সামনে বিক্ষোভ ও উত্তেজনার ঘটনায় পুলিশকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, কাটোয়া শহরে আরও কয়েকটি সরকারি ও ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানে আধার সংশোধনের পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই পরিষেবা নিয়মিতভাবে মিলছে না বলেই সাধারণ মানুষের চাপ একমাত্র পোস্ট অফিসের ওপর এসে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আধার পরিষেবা কেন্দ্রের সংখ্যা ও পরিষেবা বাড়ানোর দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলেই আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)