রাজ্যে চালু 'স্কুল ব্যাগ নীতি'! নতুন নিয়মে কী আছে?
আজকাল | ২৪ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বড্ড ভারী স্কুল ব্যাগ! এ বার পড়ুয়াদের কাঁধে অতিরিক্ত বোঝা কমাতে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি 'স্কুল ব্যাগ নীতি' মেনেই এই নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতরের সঙ্গে একযোগে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশনামা পৌঁছে গিয়েছে। নয়া নির্দেশিকায় পড়ুয়াদের শরীরের ওজনের ভিত্তিতে ব্যাগের ওজন নির্দিষ্ট করায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, পড়ুয়ার শরীরের মোট ওজনের ১০ শতাংশ হতে হবে ব্যাগের ওজন। তবে শুধু ব্যাগের ওজনের উপর গুরুত্ব নয়! পড়ুয়াদের বাড়িতে পড়াশোনার বাকি কাজ নিয়েও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে।
নয়া নিয়মে জানা গিয়েছে, প্রাক্ প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের কোনও ব্যাগ থাকবে না। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে ব্যাগের নির্দিষ্ট ওজন। প্রথম শ্রেণির জন্য ১.৬ কেজি থেকে ২.২কেজি, ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে ২-৩ কেজি, দ্বাদশের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কেজি ওজন হতে হবে ব্যাগের। সরকার জানিয়েছে, স্কুলে নিয়মিত ওই ব্যাগের ওজন পরিমাপও করতে হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে একটি চার্ট রাখতে হবে স্কুলে। সেটিকে স্কুলে সর্বসমক্ষে টানিয়ে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুলে পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। যাতে পানীয় জল ব্যাগে করে বাড়ি থেকে আনতে না হয়, তার জন্য ক্লাসেও পানীয় জল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে স্কুলে। এর ফলেও ব্যাগের ওজন কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, স্কুলের দু'টি পিরিয়ড ধরে একটিই বিষয় পড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি ভাল ভাবে বোঝা সম্ভব হবে এবং বাড়িতে বই নিয়ে আসার প্রবণতাও কমবে। খাতার পৃষ্ঠার সংখ্যা যাতে কম হয়, সে দিকেও নজর দিতে বলেছে শিক্ষা দফতর।
জানানো হয়েছে, প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য একটি খাতা ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে ক্লাস ওয়ার্ক এবং হোম ওয়ার্কের খাতা পৃথক হবে। পড়ুয়াদের একটিই খাতাই স্কুলে আনতে হবে। প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি শিশুদের কোনও হোম ওয়ার্ক থাকবে না। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে সপ্তাহে দু'ঘণ্টা এবং ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা হোমওয়ার্ক দেওয়া যাবে। নবম থেকে দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য হোমওয়ার্ক দিতে হবে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা।
বিশেষ ভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে নির্দেশ। তাদের জন্য স্কুলেই লকারের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষাবর্ষ শুরুর প্রথম দিন থেকেই অভিভাবক এবং পড়ুয়াদের সচেতন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বছরে ১০ দিন 'নো ব্যাগ ডে' পালন করতে হবে স্কুলে। ওই দিনগুলিতে পড়ুয়াদের জন্য থাকবে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা। ওই সময়ে স্থানীয় কুমোর, ছুতোর, মালি বা কোনও শিল্পীর কাছ থেকে কাজ শিখবে তারা।
তবে পড়ুয়াদের উপর স্কুলব্যাগের বোঝা কমানো নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এ নিয়ে নিয়ম জারি হয়েছে একাধিক বার। কিন্তু বাস্তব অন্যরকম চিত্রই ধরা দিত। ব্যাগের ভারে কার্যত প্রতিদিন ঝুঁকে যেতে হয় পড়ুয়াদের। পাশাপাশি, হোমওয়ার্ক এবং অন্য কারণেও পড়ুয়াদের উপর মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়। তাই এই নির্দেশিকা বাস্তবায়িত হলে পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকেরা অনেকটা স্বস্তি পাবে বলে আশা শিক্ষকমহলের।