• অদিতি-দেবরাজ মামলা বিতর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বিকাশের
    আজকাল | ২৪ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের নতুন বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। অভিযোগ, হিসেব বহির্ভূত আয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ায় হলফনামায় সঠিক তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। তাঁদের হয়ে মামলা লড়ছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এরপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলের অনেকেই এমনকি তৃণমূলও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিকাশকে। এই আবহে ফেসবুকে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন আইনজীবী।

    ফেসবুকের পোস্টে তিনি ডারো হে নামক এক আইনজীবীর গল্প তুলে ধরেছেন। এই আইনজীবীর গল্প তিনি পড়েছেন ক্লারেন্স ডারো ফর দ্য ডিফেন্স নামক বইয়ে। তাঁকে এই বই উপহার দিয়েছিলেন নন্দিনী এবং শাহিদ। হোটেল হিন্দুস্তানের কর্মীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করার জন্য এই উপহার। বিকাশ লিখেছেন, গল্পটি এক আমেরিকান আইনজীবীর। চার্লস ডারউইনের বিবর্তনের তত্ত্বই সঠিক, বাইবেলের গল্পকথা যে বিজ্ঞান নয়, তা স্কুলে পড়ানোয় এক শিক্ষককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। আদালতে তাঁর হয়ে মামলা লড়েছিলেন ডারো এবং বাইবেলের অসারতা প্রমাণ করেছেন। 

    তিনি লিখেছেন, “ন্যয় বিচারের স্বার্থে তথাকথিত সমাজিক সেন্টিমেন্টের তোয়াক্কা না করে এক জঘন্য খুনির হয়ে সওয়াল করায় স্বার্থান্বেষী মিডিয়া কীরকম কুৎসার শিকার হয়েছিলেন সেটাও লক্ষ্যনীয়।” বর্তমান বিতর্ক উস্কে দিয়ে বিকাশ আরও লিখেছেন, “হঠাৎই ক্লেরেন্স ডেরোর কথা স্মরণে এল। তখনও সব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এক হয়েছিল। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় এখানেও সব প্রতিক্রিয়া ও ছদ্মবেশী প্রতিক্রিয়া ঐক্যবদ্ধ। দয়া করে কেউ ভেবে বসবেন না মহান ডেরোর সঙ্গে বিকাশকে তুলনা করা হল।”

    প্রসঙ্গত, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এই আশঙ্কায় আদলতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অদিতি এবং দেবরাজ। আগাম জামিনের আর্জি জানানো হয়েছিল। আদালতে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন বিকাশ। রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিজনদের নামে হস্তান্তর করেছেন দু’জনে। হলফনামায় কম সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। 

    পাল্টা বিকাশের সওয়াল, সম্পত্তি অন্য কারও নামে হস্তান্তর অপরাধ নয়। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ আয়কর দপ্তর খতিয়ে দেখবে। তাঁর আরও সওয়াল, হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া হলে তা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হিসাবে গণ্য হতে পারে। কিন্তু তা কী করে অপরাধমূলক কাজ হিসাবে গণ্য হবে। এর পরেই আদালত মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয় আগামী ১৯ জন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যাবে না অদিতি এবং দেবরাজকে। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। 

    তৃণমূলের দুই নেতার হয়ে মামলা লড়ায় দলের অন্দরেও কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে সিপিএমের আইনজীবী নেতাকে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের নীচুতলার কর্মীরা। বিকাশের দাবি, তিনি একজন আইনজীবী। মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

    খোদ তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ ব্যানার্জি কটাক্ষ করেছেন বিকাশকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে কল্যাণ বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে গোপন আঁতাতের প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছেন, তিনিই এখন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং তাঁর স্বামীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করছেন। অন্যদিকে, এই একই আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন যে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। কল্যাণের দাবি, অন্তত এই পরিস্থিতির পর দুর্নীতি নিয়ে নীতিগত দাবি করা থেকে তাঁর বিরত থাকা উচিত।
  • Link to this news (আজকাল)