আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইদ-আল-আধা বা বকরি ইদের ছুটি কমিয়ে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার নবান্নের তরফে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ, ২৬, ২৭ মে দু'দিন নয়, ইদ-আল-আধার জন্য আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সরকারি ছুটি থাকবে।
সরকারি তরফে যুক্তি, সাধারণত চাঁদ দেখার ওপরই মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে ইদ-আল-আধা অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার। তাই দিনক্ষণ বদলে ওই দিনটিকেই ছুটির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার ইদ-আল-আধা উপলক্ষে দু'দিন সরকারি ছুটি দিত। রাজ্যপাটে বদল হতেই সেই রীতিতে ছেদ পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে অতিরিক্ত ছুটির সংস্কৃতির বদনাম ঘুচিয়ে রাজ্য প্রসাশনে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোই নয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতায় এসেই গবাদি পশু নিধন নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার ৷ ২০১৮ সালের অগাস্টে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের উপর ভিত্তি করে ২০২২ সালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার ৷ সেই বিজ্ঞপ্তি এবং ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে গত ১৩ মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে নয়া রাজ্য সরকার ৷
সেই নির্দেশিকায় উল্লেখ, কোনও গবাদি পশুর জবাই বা হত্যা ইচ্ছেমতো করা যাবে না। ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা 'কুরবানি' দেওয়ার জন্যপশুটির বয়স অন্ততপক্ষে চোদ্দ বছরের বেশি হতে হবে । যদি বয়স চোদ্দ বছরের কম হয়, তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে ওই পশুকে কোনওমতেই 'কুরবানি' দেওয়া যাবে না।
তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি পশুটি বার্ধক্যজনিত কারণে দুর্বল হয়, কোনও গুরুতর আঘাত পায়, শারীরিক বিকৃতির শিকার হয় অথবা এমন কোনও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ফলে অক্ষম হয়ে পড়েছে, তবেই সেটি জবাইয়ের জন্য বিবেচিত হতে পারে।
পশুর জবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলা, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করতে বৃহস্পতিবার অস্বীকার করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গত ১৩ মে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি মূলত ২০১৮ সালে আদালত নিজেই যে নির্দেশাবলি জারি করেছিল, তারই বাস্তবায়ন মাত্র।