• আরজি কর কাণ্ডে চর্চিত অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৪ মে ২০২৬
  • আরজি কর-কাণ্ডের পর সরকারি হাসপাতালগুলিতে কথিত ‘দাদাগিরি’ বা ‘থ্রেট কালচার’এবং নানা বিতর্কের জেরে আলোচনায় উঠে আসা চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে এবার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। পাশাপাশি তিনি কীভাবে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই বিষয়েও তদন্তের নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার।

    অভীক দে আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি বিভাগের প্রথম বর্ষের স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে যোগ দেন। তবে আরজি কর-কাণ্ডের পর তাঁর ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি এখনও সাসপেন্ড অবস্থাতেই রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য ভবনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অভীকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। একইসঙ্গে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে তিনি কীভাবে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হলেন, তা নিয়েও বিশেষ অনুসন্ধান করা হবে।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে এবং পরে সরকারি হাসপাতালগুলিতে কিছু চিকিৎসকের প্রভাব খাটানো বা ‘দাদাগিরির’ বিষয়টিও সামনে আসে।

    সেই সময় অভীক দে-র বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে দাদাগিরির অভিযোগ উঠে আসে। আরজি কর-কাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে এসএসকেএমের চিকিৎসক-পড়ুয়া অভীকের উপস্থিতি নিয়েও উঠেছিল একাধিক অভিযোগ।  প্রশ্ন ওঠে, আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত না হয়েও তিনি ওই ঘটনার সময় সেখানে কী কারণে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশের তরফে দাবি করা হয় , তিনি সেখানে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এর পাশাপাশি এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর স্নাতকোত্তর আসন পাওয়া নিয়েও বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন প্রশ্ন তোলে।

    ঘটনার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, বহির্বিভাগ এবং হস্টেলেও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল। ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ সামনে আসার পর কাউন্সিলের বৈঠকে তাঁর অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যদিও কয়েক মাস পরে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

    এদিকে, সরকার পরিবর্তনের পর আবার এই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল একজন নয়, ঘটনায় যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সমান তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে তারা।

    এদিন অভীকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশের পর বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ‘তিলোত্তমার বিচার প্রক্রিয়ায় যাঁরা বাধার সৃষ্টি করেছিলেন, সবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। অনেক দিন আগে এই কাজ হওয়া উচিত ছিল। এটি এখন শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে দিয়েছেন দুর্নীতিগ্রস্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। যথাস্থানে এদের জায়গা হবে।’

    আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো বলেছেন, ‘এই অভীক দে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে থ্রেট কালচারের জনক। এদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।’ স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, সরকারি হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে এমন তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)