চিনের PL-15E ক্ষেপণাস্ত্রের ‘ব্রেন হ্যাক’ ডিআরডিও-র, পাকিস্তানের ভুলে ‘জ্যাকপট’ ভারতের
প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
পাকিস্তানের ভুলে বিরাট জ্যাকপট হাতে পেল ভারত। অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাঞ্জাবে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল পাকিস্তানের ছোড়া অত্যাধুনিক চিনা ক্ষেপণাস্ত্র PL-15E। ডিআরডিও এবং ভারতীয় বায়ুসেনার উদ্যোগে দেশের বিজ্ঞানীরা অবশেষে এই ক্ষেপণাস্ত্রের মগজ দখলে সফল হল। রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দৌলতে অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত গোপন তথ্য হাতে এসেছে ভারতের।
২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। সেই সময় ভারতের যুদ্ধ বিমানগুলিকে নিশানা করতে পাকিস্তানের J-10C এবং JF-17 বিমান থেকে ছোড়া হয়েছিল চিন নির্মিত PL-15E ক্ষেপণাস্ত্র। আকাশ থেকে আকাশে হামলা চালানোর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্র অবশ্য লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই সুদর্শনে ধ্বংস হয়। কিছুর জ্বালানি শেষ হওয়ায় এমনিই মাটিতে আছড়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি আছড়ে পড়েছিল পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলার কামাহি দেবী গ্রামের কাছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সুইসাইড প্রযুক্তি কোনওভাবে কাজ করেনি। এটিই কার্যত জ্যাকপট হিসেবে প্রমাণিত হয় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজ্ঞানীদের কাছে।
প্রায় এক বছর ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের উপর প্রযুক্তিগত তদন্ত চালানো হয়। অবশেষে ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রের রাডার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে পাঠোদ্ধার করেছে। ডিআরডিও-র তরফে জানা যাচ্ছে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা কার্যত বিরল। তবে অনুমান করা হচ্ছে, পাকিস্তানে যে ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানি করেছিল চিন তার মধ্যে এটিতে হয়ত কোনওভাবে সুইসাইড প্রযুক্তি ছিল না। ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন তথ্য ভারতের হাতে চলে আসা নিশ্চিতভাবে চিনের জন্য উদ্বেগের। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সংস্থা চায়না এয়ারবোর্ন মিসাইল একাডেমি (কামা)-র একটি ইঞ্জিনিয়র দল তড়িঘড়ি পাকিস্তান সফর করে। এবং যে ক্ষেপণাস্ত্র চিনের তরফে পাকিস্তানকে রপ্তানি করা হয়েছিল সেই লট খতিয়ে দেখা হয়। কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের সুইসাইড প্রোগ্রাম ব্যর্থ হল তা খতিয়ে দেখছে চিন।
উল্লেখ্য, পিএল-১৫ই হল চিনের এক আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি পাকিস্তান এই অস্ত্রের বলের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পাক বায়ুসেনা তাদের জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ বিমানে এটি ব্যবহার করে। এর পাল্লা ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে জানা গেছে। এটি ডুয়াল-পালস সলিড-প্রোপেল্যান্ট রকেট মোটর দ্বারা সজ্জিত। কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, এর গতি শব্দের গতির পাঁচগুণ, অর্থাৎ ম্যাক ৫ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।