‘ওসব বাংলাদেশের স্মৃতি’, বিশ্ববাংলার ‘ব’ লোগো সরিয়ে কটাক্ষ বিজেপি বিধায়কের
প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
বিশ্ববাংলার ‘ব’ নকশার বৃত্তাকার লোগোকে ‘বাংলাদেশের স্মৃতি’ বলে কটাক্ষ করলেন গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়। গঙ্গারামপুর চৌপথি এলাকায় বিশ্ববাংলার ‘ব’ নকশার একটি বৃত্তাকার লোগো ছিল। শনিবার সেই লোগো সরিয়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে বালুরঘাটজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক বিশ্ববাংলার লোগোকে ‘বাংলাদেশি স্মৃতি’ বলে কটাক্ষ করেন।
জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে গঙ্গারামপুর শহরের চৌপথিতে এই বিশালাকৃতির ‘ব’ নকশার লোগোটি লাগানো হয়। এটি একটি ক্লক টাওয়ারের উপরে বসানো হয়েছিল। এর ফলে গঙ্গারামপুরের ওই জায়গাটি বিশেষভাবে চিহ্নিত করা যেত। সৌন্দার্যায়নের কারণে সেটির নিচে সেলফি জোন তৈরি হয়। অবশেষে শনিবার পুরসভার পক্ষ থেকে বিশ্ববাংলার ‘ব’ নকশার ওই গোলকটি ভেঙে নামিয়ে দেওয়া হল।
গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় জানান, সরকারি ১৭-১৮ টি দপ্তরের আধিকারিক, বিডিও এবং আইসির উপস্থিতিতে একটি বৈঠক করা হয়েছে। সেখানেই লোগো সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বলা হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববাংলার ‘ব’ লেখা গোলক সরিয়ে ফেলতে হবে। সেখানে অশোকস্তম্ভ বা ডঃ বি আর আম্বেদকরের মূর্তি বসানো হবে। তাঁর কথায়, “এখানে বিশ্ববাংলার ‘ব’ চলবে না। এগুলো বাংলাদেশের স্মৃতি।” গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র জানান, সরকারি নির্দেশ ছিল, এটি খুলে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ পালন করা হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে বিতর্ককে সঙ্গী করেই রাজ্যে চালু হয়েছিল ‘বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড’ লোগো। সব সরকারি চিঠির মাথায় থাকত বিশ্ববাংলার ‘ব’ নকশায় বৃত্তাকার সেই লোগো। সেই লোগোর সঙ্গেই লেখা থাকত পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ‘ব’ নকশার বৃত্তাকার সেই লোগো বসানো হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের অনেক জায়গায় এই লোগো ভাঙাও হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই লোগোর নকশা। সেরকমই গঙ্গারামপুর শহরের চৌপথি থেকেও এই লোগোর নকশা সরানো হল।
উল্লেখ্য, আজই যুবভারতীর সামনে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘বিদঘুটে’ সেই মূর্তি। যে মূর্তির পা থেকে কোমর পর্যন্ত আছে। তার উপরে বসানো আছে বিশ্ববাংলা লোগো। পায়ের বলে লেখা ‘জয়ী’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই মূর্তির নকশা তৈরি করেছিলেন।