• অসমের ধাঁচে উন্নয়ন হোক, আর্জি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উদ্যোগী উত্তরের চা বণিকসভা
    প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
  • উত্তরের চা শিল্পের সঙ্কট মেটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের। অসমের ধাচে উত্তরের চা বাগানেও উন্নয়নের কাজ হোক চাইছেন চা বণিকসভার কর্তারা। উত্তরের রুগ্নপ্রায় চা শিল্প রক্ষার জন্য বিগত দিনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কার্যকরী কোনও ভূমিকা নিতে পারেনি বলেই মনে করছেন চা চাষিদের বড় অংশ।

    অভিযোগ, ওই সময় রাজ্য সরকার দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। ‘চা সুন্দরী’-র মতো প্রকল্পগুলো সফল হয়নি। উলটে চা শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদান ঘিরে শ্রমিক মহলে ক্ষোভ বেড়েছে। গুরুত্ব পায়নি চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, কাচা চা পাতার ন্যূনতম দাম নির্ধারণের মতো চা শিল্পের প্রকৃত সমস্যাগুলো। অসমে চা শিল্পে সেখানকার বিজেপি সরকারের উদ্যোগ দেখে উত্তরের চা বণিকসভার কর্তাদের অনেকেই খুশি। পশ্চিমবঙ্গেও ডাবল ইঞ্জিন সরকার তৈরির পর তারা আশা করছেন এখানেও অসমের মতো উদ্যোগ নেওয়া হবে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই ইঙ্গিত দেওয়ায় প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে। 

    কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জুন মাসে আলোচনায় বসব। এখানেও অসমের মতো পদক্ষেপ করার আবেদন জানাব।” ঠিক কী সুবিধা পাচ্ছে অসমের চা শিল্প? বিজয়গোপালবাবু জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সেখানকার চা শিল্প পাচ্ছে। বিগত রাজ্য সরকার প্রকল্পগুলো আটকে রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী যোজনায় অসমে চা শ্রমিকদের চিকিৎসা, আবাসন থেকে পরিবারের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা উত্তরের চা শিল্পকে ইস্যু করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, অসমে চা শ্রমিকরা ২৮০ টাকা দৈনিক মজুরি পান। রেশনের সঙ্গে এই মজুরি পান। অসমে চা বাগান বন্ধ হয় না। চা বাগান বন্ধ হলে সেটা আমরা নিয়ে নেই।  

    ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফোরাম অব স্মল টি গ্রোয়ার্স’-এর চেয়ারম্যান রজত কার্জি বলেন, “ওই দাবি মোটেও অমূলক নয়। কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টায় সেখানে চা শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।” কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, চা শিল্পের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ৩১৪ কোটি টাকা পেতে চলেছে রাজ্য। তাই উন্নয়নের কাজ করতে তেমন সমস্যা হবে না। এখানেও অসমের মতো কয়েকটি চা বাগান নিয়ে একটি বড় হাসপাতাল, চা বলয়ের স্কুলে স্মার্ট ক্লাস চালু হতে পারে। অসমের মোরান, জটিলাবাড়ির মতো বিভিন্ন চা বাগানে ওই ধরনের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ হয়েছে।প্রকল্পগুলো উত্তরের চা শিল্পে চালু করার আর্জি জানাতে জুন মাসে তারা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তারা। পাশাপাশি দার্জিলিং চায়ের গৌরব ফেরানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ রাখবেন। 

    দার্জিলিং পাহাড়ে জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত ৮৭টি চা বাগান রয়েছে। তারমধ্যে অন্তত ১৫টি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। বাকিগুলোতে এক-দেড়শো বছরের পুরনো গাছ বেশি। তাই উৎপাদন কমছে। কিন্তু লোকসান বেড়ে চলায় পুরনো গাছ উপড়ে নতুন গাছ বোনার কথা কেউ ভাবতে পারছে না। ওই পরিস্থিতিতে অন্তত ২৫টি চা বাগান মালিক বাগান বিক্রির খদ্দের খুঁজছেন। নর্থবেঙ্গল টি প্রডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দশকে প্রায় ২০ শতাংশ বৃষ্টি কমেছে দার্জিলিং পাহাড়ে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে ‘সিলভার নিডেল হোয়াইট টি’ সহ দার্জিলিং চায়ের উৎপাদন গত সাড়ে পাচ দশকে উদ্বেগজনক ভাবে কমেছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের বিপদ এড়াতে চা বণিকসভাগুলো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রাখবেন।

    প্রসঙ্গত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে প্রকাশিত বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছিল, দার্জিলিং পাহাড়ে পুরনো বাগানগুলো চাঙ্গা করতে বিজ্ঞান সম্মতভাবে উচ্চ ফলনশীল চারা রোপণ করা হবে। রসায়নিক কীটনাশক মুক্ত পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চা রপ্তানি সম্প্রসারিত করতে বিশেষ রপ্তানিকেন্দ্র  গড়ে তোলা হবে যেখানে গুণগতমান যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী চা বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)