‘রগড়ানি’ মন্তব্যে ফের নতুন করে বিপাকে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে এবার বারাসত থানায় এফআইআর দায়ের করে গ্রেপ্তারির দাবি তুলল সনাতনী প্রচার ও প্রসার কমিটি। শনিবার দুই অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআরটি দায়ের করেন সংগঠনের সভাপতি হরিচাঁদ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, পরমব্রত ও স্বস্তিকাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক। এদিকে, শনিবার দুপুরে এই ইস্যুতেই গড়িয়াহাট থানায় ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। তিনিও তাঁর মতো জবাব দিয়েছেন। সন্ধ্যা গড়াতেই নতুন মামলার মুখে পড়লেন টলিউডের দুই অভিনেতা।
২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার আবহে সোশাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ। তা নিয়ে টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘সনাতনী প্রচার ও প্রসার কমিটি’র সভাপতি হরিচাঁদ বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, ‘‘২০২১ সালের ভোটে তৃণমূলের বিশাল জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাতে প্রচণ্ড অপমানিত হয় সনাতন সমাজ। এমনকী আমাদের কেউ কেউ অপমানে মারাও গিয়েছেন। তাই আমরা আজ তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলাম। আমরা চাই, দু’জনকে গ্রেপ্তার করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কেউ কোনওদিন সনাতনীদের অপমানের সাহস না পায়।” এফআইআরের সপক্ষে হরিচাঁদবাবু পরমব্রত-স্বস্তিকার তখনকার পোস্টের স্ক্রিনশটও জমা দিয়েছেন থানায়।
ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর ২১ মে পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করেছিলেন এক আইনজীবী। পুলিশ তার ভিত্তিতে শনিবার তলব করেছিল অভিনেত্রীকে। এদিন দুপুরে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। সেসময় পরমব্রতর ‘রগড়ানি’ পোস্টকে কেন সমর্থন করেছিলেন অভিনেত্রী, সেই বিষয়ে প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলে। থানা থেকে বেরিয়ে অবশ্য স্বস্তিকা সংবাদমাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। এবার বারাসত থানায় এফআইআরে তাঁরা নতুন করে আইনি ফাঁপড়ে পড়লেন।