আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, এবার বাংলাতেও চালু হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’
প্রতিদিন | ২৪ মে ২০২৬
কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বাংলার মানুষ! মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই এহেন আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এবার বাংলাতেও পুরোদমে শুরু হতে চলেছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। যেখানে কেন্দ্রের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা উন্নয়ন কমিশনার ড. রজনীশ উপস্থিত ছিলেন। আর সেই বৈঠকে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’ চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে খবর। এই প্রকল্প বাংলাতে চালু হলে শিল্পী এবং কারিগরদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে আগের তৃণমূল সরকারকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই প্রকল্প রাজ্যে লাগু করতে দেয়নি। তিনি বলেন, ”আমাদের কামার, কুমোর থেকে, কুম্ভকার, স্বর্ণকার থেকে, মালাকার থেকে, তাঁতি থেকে, নাপিত থেকে সবাই যারা ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করে রেখেছিলেন, আগের সরকার এই আবেদন তাদের জেলা শাসকদের দিয়ে কেন্দ্রের এমএসএমই দপ্তরে পাঠাতে দেননি। আমরা দ্রুত সেই ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন পত্রকে পাঠানোর ব্যবস্থা নিলাম।”
এহেন ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই কেন্দ্রের প্রতিনিধির সঙ্গে মুখ্যসচিবের বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, নবান্নে হওয়া ওই বৈঠকে কীভাবে এই প্রকল্প দ্রুত বাংলায় চালু করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি নজরদারি কমিটি গঠন করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, ‘জেলা বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে বলে খবর।
বলে রাখা প্রয়োজন, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’ চালু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প মন্ত্রকের অধীনে চালু হয় এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত কারিগর শ্রেণির মানুষকে সাহায্য প্রদান করা হয়। দেওয়া হয় কোনও জামানত ছাড়াই লোনের সুবিধা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ইনসেন্টিভ এবং মার্কেট লিঙ্কেজ সাপোর্টের সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। দেশে তৈরি পণ্য যাতে বিদেশের মাটিতে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব তাও এই প্রকল্পের অন্যতম দিক। বাংলায় এই প্রকল্প চালু হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।