ফাইল লোপাটের চেষ্টা ! বিজেপির অভিযোগে কলকাতা কর্পোরেশনে তোলপাড়
eTV Bharat | ২৩ মে ২০২৬
কলকাতা, 23 মে: ফাইল লোপাটের চেষ্টা কলকাতা কর্পোরেশনে ! বিজেপির দাবি ঘিরে হইচই পুরনিগমে ৷ বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীর্ঘদিনের কংগ্রেস কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলেন পুরসচিব কিশোর কুমার বিশ্বাসকে ৷ পুরভবনে এই কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ৷ কাঠগড়ায় তৃণমূল ৷
রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফলে সরকারের পালাবদল স্পষ্ট হতেই নবান্নের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ৷ তৃণমূল জমানার ফাইল যাতে সরানো না-হয়, তাই নজরদারিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ৷ ঘিরে ফেলা হয়েছিল নবান্ন ৷ একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ভবন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনকেও ঘিরে ফেলে তারা ৷
রাজ্য সরকারে বদল হলেও কলকাতা কর্পোরেশন বোর্ড এখনও তৃণমূলের দখলে ৷ এবার সেই বোর্ডের বিরুদ্ধে ফাইল লোপাটের চেষ্টা অভিযোগ আনল বিজেপি ৷ বিজেপি কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিত, সজল ঘোষ এই বিষয়ে মেয়র ফিরহাদকে কটাক্ষ করেন ৷ এদিন কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক পুরসচিব কিশোর কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন ৷ তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে যান কেন্দ্রীয় ভবনে পিছন দিকের একটি অংশে ৷
একটি ঘরে থরে থরে বস্তা রাখা হয়েছে ৷ সেই বস্তাগুলি দেখানো হয় তাঁকে । সন্তোষ পাঠক বলেন, "আমাদের কাছে খবর ছিল কিছুদিন ধরেই ৷ বিভিন্ন বিভাগে তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড যেসব বেআইনি কাজ করেছে, সেই ফাইল বিভিন্ন জায়গায় ধীরে ধীরে নামানো হচ্ছে ৷ বস্তাবন্দি করে রাতে লোপাট করার পরিকল্পনায় করেছে ওরা ৷ খবর পেতেই আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাই ৷ কেন এই ফাইলের বস্তাগুলি রাখা হয়ছে ? কী আছে ফাইলে ? তার উত্তর দিতে পারেনি সচিব ৷ তিনি জানিয়েছেন, ওই ঘরের উপর নজরদারি করা হবে ৷ কোন কোন ফাইল আছে, সেগুলিকে এখানে কেন রাখা হয়েছে -এ সব নিয়েই খোঁজ খবর করা হবে বলে সচিব আমাদের আশ্বস্ত করেছেন ৷"
শুক্রবার থেকে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে কলকাতা পুরনিগমে ৷ মাসিক অধিবেশন ডেকেছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায় ৷ কিন্তু তাঁকে না জানিয়ে নাকি অধিবেশন বাতিল করেন পুরনিগমের সচিব ৷ অধিবেশনে যোগ দিতে আসা তৃ়ণমূল কাউন্সিলরা দেখতে পান অধিবেশন কক্ষে তালা দেওয়া আছে ৷ প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা ৷ সচিবের ঘরে গিয়ে তাঁকে কক্ষ খুলে দিতে বলেন ৷ কিন্তু তিনি রাজি হননি ৷ শেষমেশ কাউন্সিলরদের ক্লাবরুমে চেয়ারপার্সনের নেতৃত্বে অধিবেশন হয় ৷ অংশ নেন মেয়র থেকে শুরু করে ডেপুটি মেয়র-সহ তৃণূলের 90 জন কাউন্সিলর ৷ বেশ কয়েকজন অবশ্য হাজির হননি ৷
এই অধিবেশনকে বেআইনি অ্য়াখ্যা দেয় বিজেপি ৷ পাশাপাশি সেদিনও ফাইল লোপাট হওয়া নিয়ে তোপ দাগে গেরুয়া শিবির ৷ দলের কাউন্সিলর তথা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, " কলকাতার রাস্তায় আগে শোনা গিয়েছে মমতা ফাইল চোর ! এখন আমাদের যেন বলতে না-হয় মেয়র ফাইল চোর। আমাদের কাছে সব খবর আসছে। আমরা জানতে পেরেছি ফাইল বাঁধা হচ্ছে। সেখানে সিসিটিভি লাগিয়ে দিয়েছি ৷" তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "সব সিসিটিভি যে মেশিন হতে হবে, এমন তো কথা নেই ৷ কিছু সিসিটিভি মানুষও হতে পারে ৷" এরপর এদিন থরে থরে ফাইল রাখা আছে এমন জায়গার দিকে পুরনিগমের সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করল বিজেপি ৷