সময়ের আগে ইম্পা থেকে সরানো হল পিয়াকে ! নতুন সভাপতি রতন সাহা?
eTV Bharat | ২৩ মে ২০২৬
কলকাতা, 23 মে: সময়ের আগেই 'ধ্বনি' ভোটের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হল ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে (Piya Sengupta)। শুক্রবার সন্ধ্যায় চরম অরাজকতা তৈরি হল সংগঠনের অফিসে। এদিন দুই পক্ষের বৈঠকের কথা ছিল। হাজির ছিল দুই পক্ষই। একদিকে পিয়া সেনগুপ্ত ও ইম্পার সদস্যরা। অন্যদিকে প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশ। যাঁদের মধ্যে অন্যতম শতদীপ সাহা। তাঁর কথায়, "মিটিং ছেড়ে বারবার উঠে যাচ্ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। ভেস্তে দিতে চেয়েছিলেন বৈঠক। অনেক সংখ্যক মানুষ আজ এসেছেন। তাঁদের অনেক্ষণ বসিয়ে রাখেন পিয়া দি।"
পিয়ার দাবি, তাঁর দিকে তেড়ে এসেছিলেন বিরোধীপক্ষের কেউ কেউ। শ্লীলতাহানির অভিযোগও।তোলেন তিনি। এরপর পিয়া সেনগুপ্তর উদ্দেশে 'ফাইল চোর' স্লোগান তোলেন বিরোধীরা। বেরিয়ে যান পিয়া। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, শতদীপ সাহা। তিনি ঘোষণা করেন, "আজ (শুক্রবার) সাড়ে 300-রও বেশি প্রযোজক-সদস্য এসেছিলেন। প্রত্যেকে জানিয়েছেন, তাঁরা পিয়া সেনগুপ্তকে চান না। সবাই ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে তাঁদের দাবি জানান। আর পিয়া সেনগুপ্তর জায়গায় বেছে নেন রতন সাহাকে।"
এদিন পিয়া উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বিরোধী প্রযোজকদের আচরণ এতটাই অসংযত যে তাঁর পক্ষে বৈঠক করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু ততক্ষণে 'ধ্বনি' ভোটে অস্থায়ীভাবে সভাপতির আসনে রতনবাবুকে মেনে নিয়েছেন অধিকাংশ প্রযোজক। এখন প্রশ্ন হল, 2027 পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতিপদে যাঁর মেয়াদ, তাঁকে কি 'ধ্বনি' ভোটে সরানো যায়? পিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "হাইকোর্ট 2025 সালে ইম্পার নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। আমি 2027 পর্যন্ত নির্বাচিত সভাপতি। আইন অনুযায়ী এ ভাবে কাউকে সরানো যায় না।" তবে, তিনি এও জানান, ইম্পার সদস্য হিসেবে প্রত্যেকের সংগঠনের প্রতি অধিকার আছে। তাই তিনি কাউকে বাধা দেবেন না।
প্রসঙ্গত, পিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিরোধীদের। আর্থিক তছরুপ, অরূপ-স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আঁতাত, সংগঠনকে রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করার মতো অভিযোগগুলি রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই প্রসঙ্গ তুললে পিয়া বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ, সব প্রমাণসাপেক্ষ। সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে আমি নিজেই সরে যাব।" সভাপতি হিসেবে রতন সাহার নাম ঘোষণা করার পরেই শতদীপ বলেন, "শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি নির্বাচন হবে। তার আগে পর্যন্ত অস্থায়ী সভাপতি রতনবাবু।"
এর ফাঁকে সংগঠনের ফাইল নিতে আসেন পিয়া। তিনি এলে ফের প্রযোজকরা তাঁকে ঘিরে ধরে ‘চোর হটাও ইমপা বাঁচাও’ ধ্বনি দিতে থাকেন। শতদীপ জানান, "সম্পাদক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে কিছু ফাইল সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন পিয়া।" তবে, পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটি চেয়ারের উপরে ফাইলগুলো রেখে, তার উপরে বসে রয়েছেন সংগঠনের এক মহিলা সদস্য! সে কথা অবশ্য অস্বীকার করেছেন বিরোধীরা। প্রমাণ ক্যামেরায় ধরা আছে বললে সাংবাদিকদের পিয়া সেনগুপ্তর 'দালাল' বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। ইটিভি ভারত যোগাযোগ করে পিয়া পুত্র বনি সেনগুপ্তর সঙ্গে। তিনি এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন।