ফুটবল মাঠে রেফারি তির বেগে ছুটছেন, পিছনে ছুটছেন ফুটবলাররা। তারপরে মাঠে ফেলে বেদম মার দেওয়া হলো সহকারী রেফারিকে। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন রেফারি। হুগলির মগরায় আইএফএ স্টেট ইউথ লিগ অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল টুর্নামেন্টের ম্যাচ ঘিরে এমন অশান্তির ছবি দেখা গিয়েছে শনিবার। অভিযোগ, অফসাইডে গোল বাতিল হতেই ক্ষুব্ধ ফুটবলাররা হামলা করেন রেফারির উপর। আরও এক সহকারী রেফারি ছিলেন এক মহিলা, তাঁকেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ দিন মগরার নতুন গ্রাম সন্তান সঙ্ঘের মাঠে এই ঘটনা ঘটেছে। খেলা ছিল ভবানীপুর ক্লাব ও হুগলি সিটি ক্লাবের মধ্যে।
খেলা প্রায় শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল ভবানীপুর ক্লাব। সেই সময়ে হুগলি সিটি ক্লাব একটি গোল করে। সহকারি রেফারি অফসাইডের জন্য ফ্ল্যাগ তোলেন। অফসাইড দেখিয়ে রেফারি বাঁশি বাজাতেই ক্ষেপে ওঠেন সিটি ক্লাবের ফুটবলাররা। কেন গোল বাতিল হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে চড়াও হন তাঁরা। ঘটনার সময়ের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, রেফারি মাঠে ছুটছেন, তাঁর পিছনে তাড়া করেছেন কিছু ফুটবল টিমের জার্সি পরা কিছু তরুণ। অভিযোগ, তাঁরা হুগলি সিটি ক্লাবের ফুটবলার। মারধরের পরে মাঠে শুয়ে পড়েন অসুস্থ সহকারী রেফারি। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝে তাঁর দিকে ছুটে যান মাঠে উপস্থিত আইএফএ-র ফিজিও। তিনি আক্রান্ত রেফারির বুকে পাম্প করে তাঁকে সুস্থ করেন। আইএফএ কর্মকর্তা অনির্বান দত্ত বিষয়টি জানতে পেরে মগরা থানায় ফোন করেন। তারপরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ভবানীপুর ক্লাবের পক্ষ থেকে মাঠের অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আইএফএ-র লিগ স্তরের খেলা হচ্ছে অথচ মাঠে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। নেই ড্রেসিংরুমও। খেলোয়ারদের, কোচ ও টিমের স্টাফেদের মাঠের পাশে গাছ তলায় বসতে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভবানীপুর এফসির গোলকিপার কোচ মিঠুন দত্ত বলেন, ‘আমরা দুই গোলে জিতছিলাম। অপনেন্ট দল গোল করে তখন মহিলা রেফারি অফসাইড দেন। এরপরেই লাইন্সম্যানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তাঁকে মারধর করা হয়। মহিলা রেফারিকেও মারধর করা হয়।’ হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাত সাড়ে ন’টা পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।